কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে মহিষারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিলে রুটির সঙ্গে সিদ্ধ ডিমের পরিবর্তে কাঁচা ডিম সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বুধবার বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে রুটির সঙ্গে ডিম দেওয়া হলেও পরে দেখা যায় ডিমগুলো সিদ্ধ নয়, কাঁচা। অনেক শিক্ষার্থী ডিম খেতে না পেরে তা বাড়িতে নিয়ে যায়। শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষে সরকারের মিড ডে মিল কর্মসূচিতে এমন অনিয়মে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, আমাদের বনরুটির সঙ্গে ডিম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ডিমগুলো সিদ্ধ ছিল না। কেউই ডিম খেতে পারেনি। পরে কেউ বাড়িতে নিয়ে গেছে, আবার কেউ ফেলে দিয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই মিড ডে মিল বিতরণে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা চলছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
রাবিয়া সুলতানা নামে এক অভিভাবক বলেন, সরকার শিশুদের পুষ্টির কথা চিন্তা করে মিড ডে মিল চালু করেছে। সেখানে কাঁচা ডিম দেওয়া খুবই দুঃখজনক। আমার মেয়ে ডিমটি বাড়িতে নিয়ে এসেছে। পরে আমরা সিদ্ধ করে তাকে খেতে দিয়েছি। বিদ্যালয়ে যদি ঠিকমতো খাবার প্রস্তুত করে দেওয়া না হয়, তাহলে এই কর্মসূচির উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের ঠিকাদার মহসিন বলেন, মহিলাদের মাধ্যমে ডিম সিদ্ধ করে সরবরাহ করা হয়। সময়ের স্বল্পতার কারণে হয়তো ডিমগুলো সিদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের কাঁচা ডিম দেওয়া উচিত হয়নি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহাগ বৈষ্ণব বলেন, ঈদের ছুটি শেষে বিদ্যালয় খোলার পর থেকে যেসব দিনে ডিম দেওয়ার কথা ছিল, সেসব দিনই সিদ্ধ ডিমের পরিবর্তে কাঁচা ডিম দেওয়া হচ্ছে। আমাদের বিদ্যালয়ে ২৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত মিড ডে মিলের সুবিধা পেয়ে থাকে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দানিসুজ্জামান বলেন, আমি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছি। তাই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারছি না।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মিড ডে মিল কর্মসূচির ঠিকাদার সরাসরি অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই এ বিষয়ে আমাদের সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে কোনো অভিযোগ পেলে আমরা তা যথাযথভাবে অধিদপ্তরে অবহিত করি।







