শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকার দক্ষিণখান উপজেলার শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে হলান ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাছাই প্রক্রিয়ায় এ স্বীকৃতি অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগ চালুর পর শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে মাদ্রাসাটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয়দের মতে, প্রতিষ্ঠানটির এই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটের নেপথ্যে রয়েছেন এর বর্তমান অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল জলিল। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর কর্মকাল তিন বছর পেরিয়ে গেছে। আর এই স্বল্প সময়েই তিনি মাদ্রাসাটির খোলনলচে বদলে দিয়েছেন।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, মাওলানা আব্দুল জলিল দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষায় দীক্ষিত করতে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে চালু করেন বিজ্ঞান বিভাগ (সাইন্স শাখা)। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় সাধারণ একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 'দাখিল' স্তর থেকে উন্নীত হয় 'আলিম' (উচ্চ মাধ্যমিক) মাদ্রাসায়।
বর্তমানে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, পড়াশোনার গুণগত মানোন্নয়নের ফলে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলেও চমক দেখিয়েছে এই মাদ্রাসা। বর্তমানে দক্ষিণখান থানার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে হলান ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা।
শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল চমৎকার হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতি অভিভাবকদের আস্থাও বেড়েছে বহুগুণ। যার ফলশ্রুতিতে, গত তিন বছরে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাফল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল জলিল বলেন, "আমাদের লক্ষ্য কেবল প্রাচীন পদ্ধতির একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং নৈতিকতা ও আধুনিক বিজ্ঞানের সমন্বয়ে দেশসেরা আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলা। শিক্ষক, অভিভাবক, গভর্নিং বডি ও স্থানীয় রাজনৈতিক অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সম্মিলিত সহযোগিতায় আজ আমরা এই গৌরব অর্জন করতে পেরেছি। আগামীতে এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।"
উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হওয়ায় হলান ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষানুরাগী ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আধুনিক ও নৈতিক শিক্ষার এমন সমন্বয় দেশের অন্যান্য মাদ্রাসার জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।







