প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া, দুটি গোল বাতিল হওয়া এবং দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার হতাশা; সবকিছু পেছনে ফেলে শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে আইভরিকোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়েছে জার্মানি। টরোন্টো স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস এই জয়ে গ্রুপ ‘ই’ থেকে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল জার্মানদের পায়ে। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করতে থাকে তারা। ২৩তম মিনিটে কর্নার থেকে আলেক্সান্ডার পাভলোভিচের হেড জালে গেলেও গোলরক্ষকের ওপর ফাউলের কারণে সেটি বাতিল হয়।
এর সাত মিনিট পরই জার্মানিকে শাস্তি দেয় আইভরিকোস্ট। ৩০তম মিনিটে বক্সের ভেতর ফিরতি বল পেয়ে শক্তিশালী শটে গোল করেন ফ্রাঙ্ক কেসি। তাতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
৩৯তম মিনিটে সমতায় ফিরেছিল জার্মানি। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের পাস থেকে বল জালে পাঠান কাই হ্যাভার্টজ। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর দেখা যায়, বল দখলের সময় জামাল মুসিয়ালা ফাউল করেছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায় এবং হতাশা নিয়েই বিরতিতে যায় জার্মানি।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের জন্য মরিয়া ছিল ইউরোপীয় দলটি। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও আইভরিকোস্টের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারছিল না তারা। শেষ পর্যন্ত কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের বদলই এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত ফল।
৬৮তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা নাদিয়েম আমিরির ক্রসে বক্সে দারুণ দৌড়ে গিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত ছোঁয়ায় সমতাসূচক গোল করেন আরেক বদলি ডেনিজ উনদাভ। তার গোলে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় জার্মানি।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচে গতি আরও বেড়ে যায়। ৮৯তম মিনিটে সিমন আদিংরার সামনে আইভরিকোস্টকে আবার এগিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল। কিন্তু বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়। পাল্টা আক্রমণে জার্মানিও গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল, তবে গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানা দারুণ এক সেভ করেন।
যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি ড্রয়ের দিকেই যাচ্ছে, তখনই যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে জাদু দেখান উনদাভ। ফেলিক্স এনমেচার পাস বক্সের ভেতরে পেয়ে চমৎকার টার্ন নিয়ে শক্তিশালী শটে বল জালে জড়ান স্টুটগার্ট ফরোয়ার্ড। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে জার্মান শিবির, আর হতাশায় মাটিতে বসে পড়েন আইভরিকোস্টের খেলোয়াড়রা।







