প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশে মেধার কোনো অভাব নেই, তবে সেই মেধার সঠিক বিকাশের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশে সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই গান, বিতর্ক, খেলাধুলা, বিজ্ঞান ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আয়োজিত জাতীয় শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মেধার সক্ষমতা নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। এটা সত্যি যে, আমাদের দেশে মেধার কোনো অভাব নেই। কিন্তু সঠিক মেধার বিকাশ নেই। কেউ যদি আপনাকে বলে যে, আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি মেধার বিকাশ হচ্ছে, সে মিথ্যাচার করছে। কারণ নিজের ভুলটা না ধরা পর্যন্ত শুধরানোর কাজ আমরা করতে পারব না।
তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষা পদকের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা দেখেই বোঝা যায় তাদের মধ্যে সম্ভাবনার অভাব নেই। গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও অন্যান্য পরিবেশনায় অধিকাংশ দর্শক শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনগুলোতে শিশুদের মেধার সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। যার যে ক্ষেত্রে মেধা রয়েছে, সে যেন সেই ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগ পায়, সেই পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর গান গাওয়ার দক্ষতা থাকলে সে যেন সর্বোচ্চ মানের প্রশিক্ষণ স্কুল থেকেই পেতে পারে। কেউ বিতর্কে ভালো হলে স্কুল থেকেই তাকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছানোর সুযোগ দিতে হবে। একই ভাবে, যারা ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস, ব্যাডমিন্টন বা হাডুডু খেলতে চায়, তাদের জন্যও বিশ্বমানের খেলোয়াড় হওয়ার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ শুধু শিক্ষার্থী নয়, অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্পৃক্ত করেই বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এসব নীতিগত উদ্যোগ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের উদ্যোগের বিরুদ্ধে কাউকে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি প্রশ্ন তোলে যে, পড়াশোনার পাশাপাশি কেন গান বা সাংস্কৃতিক চর্চা শেখানো হবে? তাহলে তাদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আগামী দিনের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যারা রাজনীতি করতে চায় তারা রাজপথে রাজনীতি করবে, কিন্তু আগামী প্রজন্মের সুযোগ-সুবিধার ওপর কেউ হাত দিতে চাইলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







