রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে যৌন নির্যাতন ও বিকৃত উপায়ে হত্যার পৈশাচিক ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং অপরাধীদের অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
২০ মে ২০২৬ (বুধবার) এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই দাবি জানান।
যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, "রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসা আক্তারের ওপর সংঘটিত এই অমানবিক ও নৃশংস বর্বরতার ঘটনা পুরো জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে বিকৃত যৌন নির্যাতনের পর অপরাধ ধামাচাপা দিতে তার মরদেহ খণ্ডিত ও গুম করার চেষ্টা করা হয়। এই পাশবিক কর্মকাণ্ড কোনো সুস্থ ও সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। এই লোমহর্ষক ঘটনা প্রমাণ করে যে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও नैतिक অবক্ষয় কোন্ চরম স্তরে পৌঁছেছে।"
বিবৃতিতে দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, রামিসার হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিগত কয়েক মাসে দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতন চরম আকার ধারণ করেছে। অতি সম্প্রতি সিলেটে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা, নেত্রকোনায় ১১ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতন এবং নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ১৫ বছরের কিশোরীকে অপহরণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে জানানো হয়, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই দেশে ৭৭৬ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং অন্তত ৮১ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এসব মামলার মাত্র ৩ শতাংশের কম অপরাধীর সাজা হওয়া প্রমাণ করে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি কতটা জেঁকে বসেছে। ঘরে-বাইরে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে—কোথাও আজ মা-বোন ও শিশুরা নিরাপদ নয়। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব যাদের, সেই সরকার ও প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।"
তারা আরও যোগ করেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি না হওয়া, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকার ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই ধর্ষক ও খুনিরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে রামিসাদের মতো নিষ্পাপ শিশুদের। এই নাজুক পরিস্থিতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
বিবৃতিতে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাসহ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
একই সাথে নেতৃবৃন্দ নিহত শিশু রামিসার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং দেশে নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়তে সর্বস্তরের জনতাকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।







