পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতা সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩০ ভুক্তভোগীর টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) রাতে এ অভিযোগে কয়েকজন ভুক্তভোগী ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ডে সোহেলকে পিটিয়ে থানায় সোপর্দ করেন। পরে ভুক্তভোগীরা একই অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গুড়া থানার ওসি শাকিউল আযম।
অভিযুক্ত সোহেল রানা উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ওই ওয়ার্ডের বিএনপির সহ-সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে ভাঙ্গুড়া ছেড়ে চলে যান। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আবারও এলাকায় ফিরে আসেন।
এলাকায় ফিরেই তিনি ভাঙ্গুড়া বাজার, রাঙ্গালিয়া, পাটুলিপাড়া, ভেড়ামারা ও পারভাঙ্গুড়া গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষকে সরকারি প্রকল্পের ঘর ও কার্ড দেওয়ার নাম করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা দেওয়ার ৭-৮ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সুবিধা না পেয়ে ভুক্তভোগীরা শুক্রবার রাতে তাকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দেন।
ভুক্তভোগী সোহেল আহমেদ বলেন, সরকারি চালের কার্ড করে দেবেন বলে ৬ হাজার টাকা নিয়েছেন এক বছর আগে। আজও কার্ড পাইনি। তাই তাকে ধরে পুলিশে দিয়েছি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সোহেল রানা কোনো বক্তব্য দেননি। তবে তার স্ত্রী শিখা বলেন, আমার স্বামী চিটার সবাই জানে। কিন্তু লোকজন টাকা দিছে কেন। এখন তারা যেহেতু মারছে সেহেতু টাকা শোধ।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুর মুজাহিদ স্বপন বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আপনার থেকে শুনতেছি। না জেনে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, সোহেল রানা সরকারি বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সোহেল রানার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







