আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক প্রসিকিউটরকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় থাকা কাগতিয়া বা মুনিরীয়া যুব তবলীগের করা মামলায় জুলাই আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ এলাকার একটি বাসা থেকে সাদেক আব্দুল্লাহ নামে ওই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাউজানভিত্তিক ধর্মীয় সংগঠন মুনিরীয়া যুব তবলীগ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সমালোচিত। শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে সংগঠনটি ৫০৮ খতমে কোরআন পড়ানোর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। সংগঠনটির প্রধান মুনির উল্লাহ—যার প্রকৃত নাম সৈয়দ তফাজ্জল আহমেদ মুনিরী—কে কেন্দ্র করে ভূমি দখল, ভয়ভীতি দেখানো এবং ধর্মীয় আবরণে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার নানা অভিযোগ রয়েছে।
বায়েজিদ থানার পুলিশ বলছে, রাউজান থানায় সংগঠনটির করা একটি মামলায় সাদেক আব্দুল্লাহ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। বায়েজিদ থানার ওসি জাহেদুল কবির আমার দেশ–কে বলেন, ‘রাউজান থানায় করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিল। সে কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাউজান থানা পুলিশ তাকে নিয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের নেতা কি না, সে বিষয়ে আমাদের জানাশোনা নেই।’
সাদেক আব্দুল্লাহ ছিলেন ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় একজন মুখ। বর্তমানে তিনি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ছাত্রশিবিরের সাথী হিসেবে পরিচিত। আন্দোলনের সময় তার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
চট্টগ্রামের এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে আমার দেশ–কে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেপ্তার করে না পুলিশ। উল্টো হয়রানিমূলক মামলায় জুলাই আন্দোলনের নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে মুক্তি দিতে হবে, তা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
গ্রেপ্তারকৃত সাদেক আব্দুল্লাহর ভাই আল আমিন সাব্বির অভিযোগ করে বলেন, ‘গত বছর আওয়ামী লীগের ছায়াতলে থাকা মুনিরীয়া যুব তবলীগ হঠাৎ করে হয়রানিমূলক এই মামলাটি করে। আমরা কেউ মামলার বিষয়টি জানতাম না। কোনো তদন্তও হয়নি। আজ হঠাৎ পুলিশ এসে আমার ভাইকে তুলে নিয়ে গেল। মুনিরীয়ার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সে সক্রিয় ছিল বলেই তারা তাকে টার্গেট করেছে।’
পরিবার, সহপাঠী ও রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, মুনিরীয়া যুব তবলীগের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সাদেক আব্দুল্লাহকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে টার্গেট করা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ীই তারা গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করেছে।
গ্রেপ্তারের পর রাউজান থানায় তাকে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।







