গণভোটের রায় না মানলে বর্তমান বিএনপি সরকারকে অবৈধ বলা শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘গণভোটের রায় না মানলে সেদিন থেকেই এই সরকারকে অবৈধ সরকার বলা শুরু করবো। এজন্য আমরা সময় নেবো না। আপনারা যেমন আমাদের সব অর্জন ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য সময় নিচ্ছেন না, আমরাও সময় নেবো না। ‘৬৯ এর অর্জন রক্ষা করা যায় নাই, ‘৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। ‘২৪ এর অর্জন রক্ষা না হলে আবার ’২৬-২৭-এ এরকম কোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন।
শুরু থেকে তাঁরা সহযোগিতা করতে চাইলেও বর্তমান সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে যে আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই বলে মন্তব্য করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘যে পরিস্থিতিতে আপনারা আমাদের ফেলে দিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের রাজপথে নামা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। সামনের দিনে হয়তো আমাদের আরও বড় পরিসরে আন্দোলনের কথা ভাবতে হতে পারে। এটা কারও জন্যই ভালো হবে না, পুরো দেশের জন্যই একটা ক্ষতি হবে।’ সরকারকে হুঁশে ফিরে এসে সদিচ্ছা দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, যেসব অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়, সেগুলো রাখা হচ্ছে; কিন্তু যেসব অধ্যাদেশে জনগণের কাছে জবাবদিহির বিষয় আছে, সেগুলো বাতিল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোকে অবশ্যই আইনে পরিণত করতে হবে। স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশসহ যে অধ্যাদেশগুলো সেই সময়ের প্রয়োজনে বিশেষ পরিস্থিতিতে করা হয়েছে, সেগুলোকে বাতিল করতে হবে।’
স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যেকোনো সময় অপসারণের ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের কাছে রেখে দেওয়ার বিষয়টিকে ‘দেশের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ’ বলে আখ্যায়িত করেন এনসিপির মুখপাত্র। তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশকে বিল আকারে সংসদে না তোলারও সমালোচনা করেন তিনি। সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘যে প্রক্রিয়ায় প্রশাসক নিয়োগ করা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারের জন্ম হয়। আমরা বিগত সময়ে ফ্যাসিবাদ দেখেছি। এখন স্বৈরাচারের সব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।’
জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদেরও সরব হওয়ার আহ্বান জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, উপদেষ্টারা এখন একধরনের নীরবতা পালন করছেন, যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁরা অনেকেই খুবই ভোকাল (সোচ্চার) ছিলেন।
‘আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে ভূমিকাটা ছিল, অন্তত সেখানে ফিরে আসা উচিত, কোনো ভয়-ভীতি রাখা উচিত নয়’, বলেন আসিফ মাহমুদ।







