রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোটের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন থেকে সরকার সরে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, দ্বিচারিতার পরিণতি কখনোই ভালো হয় না।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক ওই সেমিনারে তিনি সংবিধান সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনে প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান জানান।
সাদিক কায়েম বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা নিপীড়ন, গুম-খুন, অবাধ নির্বাচনের অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনে হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ডাকসু ভিপি বলেন, ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে একাধিক কমিশন গঠন করা হয় এবং পরে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়। এই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে গণভোট আয়োজন করা হয়, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মত দেয়। এটি জনগণের স্পষ্ট ম্যান্ডেট হলেও বর্তমানে সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে অনীহা দেখা যাচ্ছে।
সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, যেসব রাজনৈতিক দল ঐকমত্য কমিশনে অংশ নিয়ে সংবিধান সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলেছিল, তারা এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। একদিকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বাস্তবে তা অস্বীকার করা হচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।







