ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক গণইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্য ধারণ করে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন হল ও বিভাগের প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
রোববার (১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক কার্জন হল প্রাঙ্গণে এ গণইফতার অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল থেকেই ইফতারকে কেন্দ্র করে নারী শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
আয়োজিত এ ইফতার মাহফিলের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন ডাকসুর কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমা। তিনি বলেন, ‘রমজানের আত্মিক আবহে একসঙ্গে ইফতার করার এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি আরো দৃঢ় করবে।’
শুভেচ্ছা বক্তব্যে ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ বলেন, ‘গণইফতারকে কেন্দ্র করে নারী শিক্ষার্থীদের একটা হিউজ সাড়া ছিল। সবাইকে নিয়ে আমরা আয়োজন করতে পারলে আমাদের ভালো লাগত।
তবে, ফান্ড থেকে শুরু করে সার্বিক ম্যানেজমেন্টের সুবিধার্থে আমরা ১২০০ নারী শিক্ষার্থীর বাইরে যেতে পারিনি। আমাদের ইচ্ছা আছে, আমরা আরো শিক্ষার্থীকে নিয়ে এরকম আয়োজন করতে চাই।’
কার্যনির্বাহী সদস্য মো. মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জিএস এসএম ফরহাদ।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘রমজানে ভালো কাজের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। একটি ছোট আমলও বহুগুণ সওয়াবের কারণ হতে পারে। তাই এ মাসে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত সর্বোচ্চ মাত্রায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন আমাদের সবাইকে এ রমজানে ক্ষমাপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তখনই আমাদের রমজান সফল হবে, যদি আমরা নারী-পুরুষ, প্রত্যেক শিক্ষার্থী আল্লাহর ক্ষমা অর্জন করতে পারি।
আমরা চাই আল্লাহ আমাদের ক্ষমাপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরিবার। আমরা সবাই এই পরিবারের অংশ। সমাজে অনেকের সম্পদ আছে, কিন্তু সবার ভাগ্যে সেহরি বা ইফতার করানোর তৌফিক হয় না। তাই আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেন আমাদের এমন সামর্থ্য দান করেন, যাতে আমরা আমাদের বন্ধু, প্রতিবেশী ও সহপাঠীদের সেহরি ও ইফতার করাতে পারি এবং ভালো কাজে আহ্বান করতে পারি।’
তিনি বলেন, ডাকসুর পক্ষ থেকে নির্বাচনের সময় আমরা যে ইশতেহার দিয়েছি, হলগুলোতে গিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে পরামর্শ পেয়েছি, আমরা সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছি। আমরা কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ, ইশতেহার বাস্তবায়ন তো হবেই, বরং তার চেয়েও বহুগুণ বেশি কাজ আমরা করার চেষ্টা করব। আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন, পরামর্শ দেবেন। ভুল করলে সংশোধন করবেন, সমালোচনা করবেন। আর ভালো কাজ করলে উৎসাহ দেবেন। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা স্বপ্নের নিরাপদ ক্যাম্পাস বিনির্মাণ করতে চাই।’
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হাইদার, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, ক্যারিয়ার উন্নায়ন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দিন, হেমা চাকমা, উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া, সাবিকুন্নাহার তামান্না, বেলাল হোসেন অপু, তাজিনুর রহমানসহ বিভিন্ন হল সংসদ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।







