রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন-কে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সংসদকে অবিলম্বে সংস্কার পরিষদ হিসেবে ঘোষণা করে শপথ গ্রহণ করতে হবে এবং রাষ্ট্রপতিকে আইনের আওতায় আনতে হবে। “আমরা ফ্যাসিস্টদের কোনো চিহ্ন বাংলাদেশে রাখতে চাই না,”—যোগ করেন তিনি।
রোববার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন-এ আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি।
অনুষ্ঠানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, সামনে এনসিপি বিরোধী দলের ভূমিকায় শক্তিশালীভাবে অবতীর্ণ হবে। সেটা শুধু সংসদে নয়, রাজপথেও। আমাদের অবশ্যই বিচার সংস্কারের দাবিতে অটল থাকতে হবে। ১৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ৩০ হাজারের ওপরে আমাদের ভাই-বোনেরা আহত হয়েছেন। সে আহত ভাই-বোন এবং শহীদদের হত্যার বিচার আমরা আদায় করে ছাড়ব। শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার আমরা আদায় করে ছাড়ব।
তিনি বলেন, আগে এই জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তারপর সকল কথা আমরা শুনব। দ্বিতীয়ত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনেকগুলো অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সেই অধ্যাদেশগুলোকে অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে বর্তমান সংসদের। সেই সংসদে সকল অধ্যাদেশকে অনুমোদন করা হবে– এটা আমরা আশা করব।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের জন্য দেশে প্রায় দুই হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন। প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। কেউ হাত হারিয়েছেন, পা হারিয়েছেন, চোখ হারিয়েছেন। নতুন সরকার এসে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অধিবেশনের আগে এখনো সময় আছে। আপনারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে প্রমাণ করুন যে, আপনারা বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে। গণভোটে যেই ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করেছেন, তাদের প্রতি সম্মান রেখে কোনো ধরনের প্রতারণার আশ্রয় না নিয়ে আপনারা সংবিধান সংস্থার পরিষদের শপথ গ্রহণ করবেন। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে আগামী সংসদের প্রতি আহ্বান জানান।
সরকারের উদ্দেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, যারা সরকার দলে এসেছেন, আপনারা যেভাবেই আসুন না কেন, ঠিক আছে এসেছেন। আপনাদের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যে ভুল আপনারা করেছিলেন, দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছিলেন, এই ভুল এবার করবেন না। আমরা শুনতে পাচ্ছি, প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় যে পোস্টিংগুলো রয়েছে, সেগুলো ৫০ কোটি, ১০০ কোটি, ১৫০ কোটি, ২০০ কোটি টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে মাছ বাজার, গরুর বাজারের মতো। এই রাষ্ট্র তো আমরা চাইনি। এক সোয়েটার ব্যবসায়ীকে এনে বাংলাদেশ ব্যাংকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক সংকটকালে তারা এমন একজনকে দায়িত্ব দিয়েছেন, যিনি আসলে সংকট থেকে বাংলাদেশে উত্তরণ ঘটাতে পারবেন না।







