আফগানিস্তান–এর তালেবান শাসকরা জানিয়েছেন, চলমান উত্তেজনা নিরসনে তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে তাদের বাহিনীর ওপর বোমা হামলা এবং সাম্প্রতিক সংঘর্ষে কয়েক ডজন সেনা নিহত হওয়ার পর এ বক্তব্য আসে।
পাকিস্তান প্রথমবারের মতো তাদের সাবেক মিত্রদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানানো হয়। ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, তালেবান জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
পাকিস্তান পরিস্থিতিকে ‘খোলা যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে কাবুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক সমাধানের পথই তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
রাজধানী কাবুল এবং তালেবান নেতৃত্বের ঘাঁটি কান্দাহার শহরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়, যা দুই ইসলামী প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের গভীর ভাঙনকে স্পষ্ট করে। কাবুলের দুটি স্থানে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং রয়টার্স যাচাই করা ভিডিওতে বিশাল অগ্নিকাণ্ডও দৃশ্যমান ছিল।
কাবুলের ট্যাক্সিচালক তামিম বলেন, ‘বিমান এসে দুটি বোমা ফেলে আবার চলে যায়। এরপর আমরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনি।
আমি তখন ঘুমিয়ে ছিলাম। আতঙ্কে সবাই বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নেমে যায়। গুদামের ভেতরের গোলাবারুদ নিজে নিজেই বিস্ফোরিত হতে থাকে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার আফগান হামলার জবাবে তালেবানের সামরিক কার্যালয় ও চৌকিতে আকাশ-থেকে-ভূমি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
তালেবান জানিয়েছে, আফগান বাহিনী ড্রোন ব্যবহার করে পাকিস্তানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। পাকিস্তান বলেছে, সব ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ অস্বীকার করা এবং প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ তোলা তালেবান বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর ‘প্রতিশোধমূলক হামলা’ চালানোর দাবি করেছে, তবে তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে।
আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি টেলিফোনে কাতারের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ আল-খালিফিকে বলেন, ‘আফগানিস্তান কখনো সহিংসতার সমর্থক ছিল না এবং সব সময় পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মানের ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।







