ফেসবুক পোস্ট

এক উপদেষ্টার ইশারায় আটক করা হয়েছিল সাংবাদিক সোহেলকে

Post Image

বুধবার সকাল ১০টার পর ডিবি হেফাজত থেকে ছাড়া পেয়ে বাসায় ফিরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে এ কথা জানিয়েছেন সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেল। তিনি দৈনিক ভোরের কাগজের অনলাইন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সোহেলের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টার ইশারায় তাকে আটক করা হয়েছিল।

তিনি তার ফেসবুক পোষ্টে  লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। বিনা অপরাধে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা ডিবি হেফাজতে থাকার পর তারা আমাকে সসম্মানে মাত্র বাসায় পৌঁছে দিয়েছে। গত রাত ১২টার দিকে ডিবি প্রধান আমার সঙ্গে কথা বলবেন, এই অজুহাতে ৫/৬ জন ডিবি সদস্য জোর করে আমাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। ডিবিতে নিয়ে আসামির খাতায় আমার নাম লেখা হয়। জুতা-বেল্ট খুলে রেখে গারদে আসামিদের সাথে আমাকে রাখা হয়।

কিন্তু কেন আমাকে আটক করা হলো? তা আমি যেমন জানতাম না, তেমনি যারা আমাকে তুলে এনেছিলেন বা ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও কিছু বলতে পারেননি। দীর্ঘ সময় পর বুঝতে পারলাম, সরকারের একজন উপদেষ্টার ইশারায় মাত্র ৯ জন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীকে মনোপলি ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার জন্যই আমাকে আটক করা হয়েছিল। আমার সাথে সংগঠনের সেক্রেটারি আবু সাঈদ পিয়াসকেও আটক করা হয়। তিনি এখনও ডিবি কার্যালয়ে আছেন।

সোহেল লিখেছেন, আজ বুধবার ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) নিয়ে ডিআরইউতে মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের (এমবিসিবি) প্রেস কনফারেন্স করার কথা ছিল। আমি সেখানে ছিলাম মিডিয়া পরামর্শক। সেই প্রেস কনফারেন্স বন্ধ করাই তাদের প্রধান টার্গেট ছিল। কিন্তু তাদের জন্য আফসোস, যে উদ্দেশ্যে তারা প্রেস কনফারেন্স বন্ধ করতে চাইল, সেটা দেশের সবাই জেনে গেল।

তার ভাষ্য, দেশের মুক্ত বাণিজ্য নীতির সঙ্গে এনইআইআর স্পষ্টতই সাংঘর্ষিক। প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে দেশে প্রতিযোগিতা কমিশনও রয়েছে। অথচ মাত্র ৯ জন ব্যবসায়ীকে সুবিধা দিতে সারাদেশে ২৫ হাজার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীকে পথে বসানোর গভীর চক্রান্ত চলছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে গ্রামের সাধারণ মানুষ, প্রবাসীসহ অনেকেই বিপদে পড়বেন। একটা চেইন ভেঙ্গে পড়বে। অনেক ব্যবসায়ী পথে বসে যাবে। জেনে রাখা ভালো, এই ৯ জনের একজন ওই উপদেষ্টার স্কুল-বন্ধু।

সোহেল বলেন, একটা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বললে সরকার কেন ভয় পায়? শুধু প্রেস কনফারেন্স বন্ধ করতেই কি আমাকে গভীর রাতে জোর করে তুলে নিতে হলো? যারা মুখে ‘বাকস্বাধীনতা’র বুলি আওড়ান, তারাই কি আমাকে বাকরুদ্ধ করতে এই আয়োজন করলেন? মগের মুল্লুকে এই কি তবে বাকস্বাধীনতার বাস্তব চিত্র?

সোহেলের ভাষ্য, আমাকে আটক করার ঘটনা জানাজানি হতেই বহু শুভাকাঙ্ক্ষী, ভাই, বন্ধু, সহকর্মী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। অনেকেই খবর নিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দিয়েছেন, বিবৃতি দিয়েছেন, সংবাদ প্রকাশ করেছেন। তাদের এই সমর্থন ও আওয়াজের কারণেই আমি দ্রুত মুক্তি পেয়েছি বলে বিশ্বাস করি। যারা আমার পাশে ছিলেন তাদের সবার প্রতি আমার অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা।

তবে ডিবির প্রধান মো. শফিকুল ইসলামের দাবি, সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলকে তাদের পেশাগত সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

অন্যান্য

News Image

কাতারে শুরু প্রথম বাংলাদেশি আম উৎসব

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায় একই স্থানে, পর্যটনের নতুন দুয়ার খুললো

চোখ, লিভার ও দেহের সুস্থতায় গাজর

শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানো, কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

শীতে কুসুম গরম পানি পানের বিভিন্ন উপকারিতা

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মনোনয়ন দাখিল করলেন এড. মাহফুজুল হক

জামায়াতের যুব ম্যারাথনে নেতাকর্মীদের ঢল

শীত নিবারণে বিছানায় কয়লার আগুন, পুড়ে ছাই বৃদ্ধা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ কমরউদ্দিনের বাড়িতে হামলা

সর্বাধিক পঠিত

সকালে খালি পেটে যেসব খাবার খাবেন

এক উপদেষ্টার ইশারায় আটক করা হয়েছিল সাংবাদিক সোহেলকে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন, ৮ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে তিস্তা ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান-ভিসির মতবিনিময়

ভুল বিকাশ নম্বরে টাকা চলে গেলে ফেরত পাবেন যেভাবে

ঢাকা শহরে জনবান্ধব স্যানিটেশন নিশ্চিতে বহুদলীয় উদ্যোগ

নারীকে ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ, প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৫

সাদাপাথরে বিছিয়ে দেওয়া হলো জব্দকৃত ১২ হাজার ঘনফুট পাথর

জাতিসংঘে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন আজ

মাদকেও সেনাবাহিনীর যুগান্তকারী অ্যাকশনের অপেক্ষা