কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এমপি মুফতি আমির হামজার নামে ‘নারীঘটিত’ একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় চললেও আমির হামজার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে, মুফতি আমির হামজার পাশে দাঁড়িয়েছেন আত-তাশরীফ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেতা ও ইসলামী বক্তা মাওলানা জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ।
তার ভাষ্য, ‘এই মজলুম আলেমে দ্বীন অত্যন্ত সরল সহজ একজন মানুষ। তার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, আল্লাহ পাক তাদের সঠিক বুঝ দান করুন।’
রবিবার (৮ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে মাওলানা জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ লেখেন, “মুফতী আমির হামজা হুজুরের সাথে দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছি। এই মজলুম আলেমেদ্বীন অত্যন্ত সরল সহজ একজন মানুষ। তার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, আল্লাহ পাক তাদের সঠিক বুঝ দান করুন। আল্লাহ পাক প্রিয় মুফাসসিরের সম্মান বৃদ্ধি করুন।”
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন নিজের ফেসবুক পোস্টে আমির হামজার একাধিক নারীঘটিত কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও নিজের কাছে থাকার দাবি করেন। তার দাবি, এসব অডিও-ভিডিও ফ্যাক্ট চেক করে তিনি সত্যতা পেয়েছেন। একই সঙ্গে, কথিত কথোপকথনের একটি অংশ প্রকাশ করেন এবং পোস্টের মন্তব্যের ঘরে অডিওর লিংক যুক্ত করেন।
প্রকাশিত ওই অডিওতে আমির হামজা সদৃশ ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘‘একদম হুলুস্থুল করে ফেললো বিষয়টা, বিষয়টা একটু ঘুলিয়ে পাকিয়ে গেলো। আমি আপনাদেরকে এত ক্ষমা চাওয়া, মাফ চাওয়ার পরেও আপনারা বললেন যে কন্ট্রোলে আছে, কিছু হবে না আমার দ্বারা, আপনার কোনো ক্ষতি হবে না। এই যে এখন কি, কোন জায়গায় গিয়ে ঠেকবে ঠিক নাই।’’
কথোপকথনের পরবর্তী অংশে নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। সেই ব্যক্তি বলেন, ‘‘আপনাদের ওপর আমার কোনো রাগ, ক্ষোভ, অভিমান, মানে কিছুই নেই। ওটুকু আমার শয়তানের ধোঁকায় হোক, নফসের জালে হোক, হয়ে যাওয়ার পরে আমি নিজেই অনুতপ্ত। তো অন্যায় করার পরে অনুতপ্ত হলে তারে মানুষ তো অন্তত মাফ করার কথা। আপনারা ইসলামি মাইন্ডের যদি মানুষ হন।’’
একই কথোপকথনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন ওই ব্যক্তি। অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, সুযোগ পেলে সাইফুল স্যারকে সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়িতে যাবেন। প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা ধরে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেন তিনি।







