মু. সাজ্জাদ হোসাইন খান, ডাকসু নেত্রী হেমা চাকমা, সানজিদা আহমেদ তন্বী এবং রেজাউল করিম রনি © ঢাকা ডায়েরি সম্পাদিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খান প্রশ্ন তুলেছেন, ক্ষমতার নেশা কি জুলাইয়ের চেয়েও বড়? ডাকসু নেত্রী হেমা চাকমা, সানজিদা আহমেদ তন্বী এবং বিএনপিপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট ও চিন্তক রেজাউল করিম রনির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের সমালোচনা করে এ প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন সাজ্জাদ। পোস্টে তিনি রেজাউল করিম রনির ‘ইমানসিপেটরি ভায়োলেন্স’ বা মুক্তিদায়ক সহিংসতা সংক্রান্ত বক্তব্য, হেমা চাকমার পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্তশাসন দাবি এবং সানজিদা আহমেদ তন্বীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন।
রেজাউল করিম রনির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সাজ্জাদ লেখেন, “শব্দ জানেন, অর্থ বোঝেন না। এমন এক বুদ্ধিজীবী(?) সম্প্রতি ‘ইমানসিপেটরি ভায়োলেন্স’-এর পক্ষে কথা বলেছেন। মনে হচ্ছে, তার সলিমুল্লাহ খান হওয়ার শখ জেগেছে। তাই তিনিও ফানোঁ জপেন, লাকাঁ জপেন। টকশোতে বসে ফিলোসফির বই পড়েন!”
তিনি আরও লেখেন, “কিন্তু পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে, তাতে ভয় হয়। ১৯৯৬ সালের মতো জনগণ আবার এই ‘মুক্তিকামী সহিংসতা’ তাদের বিরুদ্ধেই প্রয়োগ করে বসে কি না, আল্লাহই ভালো জানেন। চাঁদাবাজি, দলীয়করণ, খুন, নিরাপত্তাহীনতা। আর সবচেয়ে বড় কথা, জুলাইয়ের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে সেই রক্তের সাথেই গাদ্দারি। সংবিধান সংস্কার না করে গণভোটে দেওয়া জনগণের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। একের পর এক অপরাধ, শেষ হয় না তাদের ফিরিস্তি।”
ডাকসু নেত্রী হেমা চাকমার পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্তশাসন দাবি এবং এ ক্ষেত্রে ডাকসুর সিল ব্যবহারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সাজ্জাদ। তিনি লেখেন, “আবার দেখলাম, এক ডাকসু নেত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্তশাসন চেয়েছেন। এক সিলের জোরে দেশের সার্বভৌমত্ব আর অখণ্ডতাকেই হুমকির মুখে ফেলতে চান তিনি। এই দেশবিরোধী অবস্থানের জন্য তার ক্ষমা চাওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ছাত্রশিবিরের এই নেতা। সংবিধান সংশোধন কমিটির সভায় অংশগ্রহণ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার প্রতিবাদে অন্য ডাকসু নেতাদের সভা বর্জনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “আরেক নেত্রীকে দেখলাম, জুলাইয়ের ম্যান্ডেটে ডাকসু জিতে কিছু করুন বা না করুন, বিএনপির দেওয়া ক্ষমতার লজেন্স পেয়ে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বিকিয়ে দিয়েছেন!”
পোস্টের শেষাংশে সাজ্জাদ প্রশ্ন তোলেন, ‘ক্ষমতার নেশা কি জুলাইয়ের চেয়েও বড়?’







