নাহিদ বলেন, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন একটি অত্যন্ত ন্যায্য ও যৌক্তিক আন্দোলন
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের মতোই বর্তমান সরকার একই কায়দায় শ্রমিক আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পোশাকশ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজা কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় আহত এনসিপির চারজন নেতাকর্মীকে দেখতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজা কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় জাতীয় শ্রমিক শক্তি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চারজন শীর্ষ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে গাজীপুর চৌরাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আহতদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।
ঢামেকে চিকিৎসাধীন চারজন হলেন: জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির (২৮), কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব শেখ রায়হান (২৮), গাজীপুর জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম রাহুল (২৫) ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাজীপুর জেলা কমিটির সদস্য সচিব আবুল কাশেম (৪১)।
আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।
নাহিদ বলেন, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন একটি অত্যন্ত ন্যায্য ও যৌক্তিক আন্দোলন। সরকার এই আন্দোলনে কোনো ধরনের কর্ণপাত না করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে থামানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে শ্রমিকদের ওপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে। গতকাল হকি স্টিক ও স্ট্যাম্প হাতে সরকারের পেটোয়া বাহিনী শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের মতোই বর্তমান সরকার একই কায়দায় শ্রমিক আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কেবিনে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকেও অবগত করা হয়েছে।







