ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে আফগানিস্তানের কাছে জিম্বাবুয়ের ১৫৮ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আগামী ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচে জিতলে রান রেটের সমীকরণে ফাইনালে ওঠার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ দল। তবে শুধু জয় নয়, জয়ের ব্যবধানও নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভাগ্য।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এই ত্রিদেশীয় সিরিজে এখন পর্যন্ত দুটি করে পয়েন্ট পেয়েছে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এখনো পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি। ফলে ফাইনালে যেতে হলে শেষ ম্যাচে জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি রান রেটের হিসাবেও এগিয়ে থাকতে হবে টাইগারদের।
৪১ রানের জয়েই ফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের!
বাংলাদেশ আগে ব্যাটিং করলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে জয় ফাইনালে ওঠার পথ খুলে দিতে পারে। তবে জয়ের ব্যবধান ২১৬ রানের বেশি হলে সমীকরণ আবার বদলে যাবে।
প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ ৪১ থেকে ২১৬ রানের ব্যবধানে আফগানিস্তানকে হারালে ফাইনালে উঠবে এবং জিম্বাবুয়ে বাদ পড়বে। তবে ৪০ রানের জয় হলে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত হবে না। সে ক্ষেত্রে জিম্বাবুয়ের সামনে সুযোগ থাকবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ যদি আফগানিস্তানকে ২১৭ বা তার বেশি রানে হারায়, তাহলে জিম্বাবুয়েরও ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে। অর্থাৎ, বড় জয় পেলেই যে বাংলাদেশের ফাইনাল নিশ্চিত হবে, বিষয়টি এমন নয়। জয়ের ব্যবধানের ওপর নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কোন দল ফাইনালে খেলবে।
জিম্বাবুয়ের সামনে দুই রকম সমীকরণ
বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে জিম্বাবুয়েকে। বাংলাদেশ যদি আফগানিস্তানকে ৩৯ বা তার কম রানে হারায়, তাহলে ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে জিম্বাবুয়ের।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ২১৮ বা তার বেশি রানের ব্যবধানে জিতলেও জিম্বাবুয়ের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে বাংলাদেশ ৪১ থেকে ২১৬ রানের ব্যবধানে জিতলে জিম্বাবুয়ের বিদায় নিশ্চিত হবে।
অর্থাৎ, বাংলাদেশ জয় পেলেও সেই জয়ের ব্যবধানের ওপর নির্ভর করবে জিম্বাবুয়ের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন টিকে থাকবে কি না।
বাংলাদেশ পরে ব্যাট করলে কী হবে?
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করলে রান তাড়া করার সময়ই হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে ক্ষেত্রে কত ওভারের মধ্যে লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে, তার ওপর নির্ভর করবে ফাইনালে ওঠার সমীকরণ।
ধরা যাক, আফগানিস্তান প্রথম ইনিংসে ২৫০ রান করল। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে ২৫১ রান। ফাইনালে ওঠার হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশকে ৪১.৩ ওভারের মধ্যে এই লক্ষ্য তাড়া করে জিততে হবে।
অর্থাৎ, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করলে শুধু জয় পেলেই চলবে না; রান রেটের সমীকরণ মেলাতে দ্রুত রান তুলে লক্ষ্যও পূরণ করতে হবে।
পয়েন্ট ও রান রেটে এগিয়ে আফগানিস্তান
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, দুই পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে আফগানিস্তান। সমান পয়েন্ট পেয়েও রান রেটে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে জিম্বাবুয়ে। অন্যদিকে, কোনো পয়েন্ট না পাওয়া বাংলাদেশ রয়েছে তলানিতে।
দলগুলোর বর্তমান অবস্থান—
আফগানিস্তান: ২ পয়েন্ট, নেট রান রেট +৩.১৬০
জিম্বাবুয়ে: ২ পয়েন্ট, নেট রান রেট -০.৫৯০
বাংলাদেশ: ০ পয়েন্ট, নেট রান রেট -১.৯৮০
সব মিলিয়ে, আগামী ২১ অক্টোবর শারজাহতে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচেই নির্ধারিত হবে ফাইনালের সমীকরণ। বাংলাদেশের সামনে জয়ের চ্যালেঞ্জ, আর সেই জয়ের ব্যবধান ও রান তোলার গতিই ঠিক করে দিতে পারে ফাইনালে যাওয়ার ভাগ্য।







