বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে অপসারিত হয়েও থেমে নেই সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। নিজেকে এখনও সভাপতি দাবি করা সাবেক এই অধিনায়ক নানা রকম কর্মকাণ্ড করে বেড়াচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি এবার আইসিসি বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সদস্যপদ স্থগিত করার আহবান জানিয়ে! একইসঙ্গে সেই চিঠিতে আইসিসির সমস্ত তহবিল বন্ধ করা এবং আইসিসি টুর্নামেন্টগুলো থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার জোরালো আবেদন জানিয়েছেন!
দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের মাঝে সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নিয়েছিলেন বুলবুল। বলেছিলেন ‘টি-টোয়েন্টি ইনিংস’ খেলতে এসেছেন। তবে দ্রুতই তাকে চেয়ারের মোহ পেয়ে বসে। চরম বিতর্কিত নির্বাচন করে তিনি বিসিবি সভাপতি হন। তার আমলে ঠুনকো অজুহাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি বাংলাদেশ! এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ ছিল বুলবুলের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা।
নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ বিসিবি পরিচালকের
বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত এপ্রিলে আমিনুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। তবু তিনি বরাবরই নিজেকে বৈধ সভাপতি দাবি করে আসছেন। আইসিসিতে পাঠানো চিঠিতেও তিনি নিজেকেই বিসিবির বৈধ সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তাকে আবার দায়িত্ব ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত বিসিবির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বুলবুলের সাক্ষরিত সেই চিঠিতে ‘পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আইসিসি তহবিল স্থগিতকরণ’ শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘বিসিবিকে বর্তমানে প্রদেয় বা পরিশোধযোগ্য আইসিসির সকল তহবিল শর্তসাপেক্ষে আটকে রাখা বা স্থগিত করা হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হোক, যতক্ষণ না: (ক) নির্বাচিত বোর্ডের পুনঃস্থাপন অথবা আইসিসি ডিআরসি কর্তৃক একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়; এবং (খ) বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ আদালতের মামলার নিষ্পত্তি হয়। ০৭ জুন ২০২৬-এর নির্বাচনের ভিত্তিতে বিসিবির কর্তৃত্ব দাবি করে এমন কোনো ব্যক্তিকে আইসিসির কোনো তহবিল প্রদান করা যাবে না।’
চিঠির আরেকটি অংশে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা জারির দাবি জানিয়ে লেখা হয়েছে যে, ‘একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে জানানো যে: (ক) একটি অবৈধভাবে গঠিত অ্যাডহক কমিটি দ্বারা রাজনৈতিকভাবে কারসাজি করা ভোটার তালিকার মাধ্যমে পরিচালিত ২০২৬ সালের ৭ম মাসের নির্বাচনটি আইসিসি সংবিধানের ২.৪(গ) এবং ২.৪(ঘ) ধারার আরও একটি গুরুতর লঙ্ঘন; (খ) আইসিসি ২০২৬ সালের ৭ই জুন তারিখে নির্বাচিত কোনো বোর্ডকে বিসিবির বৈধ পরিচালনা কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না; (গ) আইসিসি নির্বাচিত বোর্ডকে অবিলম্বে পুনর্বহাল করার দাবি জানাচ্ছে, এবং (ঘ) আইসিসি কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্বাচিত বোর্ডকে পুনর্বহাল করতে ব্যর্থ হলে, আইসিসির ২.১০(ক) ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে বিসিবির পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিতকরণ, আইসিসির তহবিল জব্দকরণ এবং আইসিসি ইভেন্টগুলো থেকে বাংলাদেশ দলকে বাদ দেওয়া।’
আইনজীবীর মাধ্যেম আইসিসিতে পাঠানো সেই চিঠি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর বুলবুল অবশ্য নড়েচড়ে বসেছেন। এক ভিডিওবার্তায় তিনি দাবি করেছেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা’। এর আগেও অবশ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার বিষয়ে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছিলেন বুলবুল। উল্লেখ্য, বিসিবির পর একইভাবে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডেও (এসএলসি) পরিবর্তন এসেছে। তবে আইসিসি থেকে এখন পর্যন্ত বিসিবি বা এসএলসির বিষয়ে নেতিবাচক কোনো বক্তব্য আসেনি। নির্বাচনের মাধ্যমে এই মুহূর্তে বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান।







