খুলনায় এক পুলিশ পরিদর্শক ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত হওয়ার পর রাতে একা চলাচল না করতে বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছিল জেলা পুলিশ। নির্দেশনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সমালোচনা শুরু হলে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খুলনা জেলা পুলিশের ওই নির্দেশনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে খুলনা জেলা পুলিশ জানায়, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছিল। তবে সেটি জনসমক্ষে প্রকাশিত হওয়ায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তে নির্দেশনা প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বহীনতা বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ আলম দায়িত্ব পালন শেষে গভীর রাতে সাদা পোশাকে রূপসা ফেরি পার হয়ে রিকশায় খুলনা মহানগরীর পুলিশ ক্লাবে যাচ্ছিলেন। পথে কলেজিয়েট স্কুলের কাছে তিনজন ছিনতাইকারী তাঁর ওপর হামলা করে। তারা তাঁর মানিব্যাগ ও দুটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিতে গেলে একজন ছিনতাইকারী চাপাতি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপায়। এতে তাঁর দুই হাত গুরুতর জখম হয়।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপারের স্বাক্ষরে একটি আন্তঃবিভাগীয় নির্দেশনামূলক অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে দায়িত্ব পালন শেষে, বিশেষ করে গভীর রাতে সাদা পোশাকে চলাচলের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। আদেশটি শুধু জেলা পুলিশের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছিল। পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত করা বা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দেওয়া এর উদ্দেশ্য ছিল না বলে দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জেলার থানাগুলোতে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি চেকপোস্ট স্থাপন, অপরাধ দমনে অভিযান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। এসব তৎপরতায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে।







