রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশে সড়কসংলগ্ন দেয়ালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি বিকৃতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার আসামিকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত প্রধান মহানগর হাকিম জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আসামি আল নূর মোহাম্মদ আয়াশ ও মো. সাকিবুল হাসানকে তিন দিন করে এবং মো. সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমিকে দুই দিন করে রিমান্ডে নেওয়া যাবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল গাফফার হিমেল চার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন সুমন রিমান্ড বাতিল করে তাঁদের জামিনের আবেদন করেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানে ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে দেওয়ার পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের সীমানাপ্রাচীরে গ্রাফিতিগুলো আঁকা হয়েছিল। গত ৯ অক্টোবর আয়াশ গ্রাফিতিগুলো সাদা রং দিয়ে মুছে ফেলার ঘোষণা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পরদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চার আসামি কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ওই দেয়ালের সামনে জড়ো হন। এ সময় আয়াশ পাকিস্তানে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দাদা-দাদির কবর এবং মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সমাধির প্রসঙ্গ তোলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জিন্নাহর নামফলকে উর্দু ও বাংলায় লেখা থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
অন্যদিকে মারজিয়া খন্দকার রিমি ভারতের আগ্রাসনের প্রতিবাদে সেখানে জড়ো হওয়ার কথা বলেন বলে রিমান্ড আবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারিতে মুসলমানদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি গ্রাফিতিতে কালো কালি মাখিয়ে দেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে কোনো দেয়ালে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পুলিশের দাবি, আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।







