রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে গুরুতর আহত বলে জানা গেছে।
রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত চার সাংবাদিক হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।
হামলাকারীরা রাবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ ছাত্রদলের প্রায় দশজন নেতাকর্মী হামলা চালায়।
সরেজমিনে ও প্রতক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, আজ রাত ৮ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারার উদ্দেশ্যে জিয়াউর রহমান হল গেইটে আসেন ছাত্রদল নেতারা। এসময় তাদের হাতে বস্তা ভর্তি দেশীয় অস্ত্র রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ, ব্যাজবলসহ অন্যান্য বিভিন্ন অস্ত্র দেখা যায়। পরে প্রক্টর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলে তারা অস্ত্র লুকিয়ে ফেলে। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হল গেইটে অস্ত্র হাতে দেখতে পেয়ে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ভিডিও করার জন্য এগিয়ে গেলে প্রক্টরের উপস্থিতিতে সমকালের প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো শুরু করে। পরে আজকের পত্রিকা প্রতিনিধির মোবাইল কেড়ে নিতে তেড়ে আসে। এক পর্যায়ে সেখানে বিডিনিউজ ২৪.কম এর প্রতিনিধিকে পেটানো শুরু করে। পরে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভিতরে ঢুকিয়ে তালা দেন।
সাংবাদিকদের উপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে সেখানে দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, আগামীর সময়ের প্রতিনিধিকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে আগামীর সময় প্রতিনিধির মাথা ফেটে যায়। এছাড়াও অন্যান্য সাংবাদিকরা রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসলে তাদের পুতে ফেলার হুমকি দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা ব্যর্থ আমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।







