জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম ‘সিন্ডিকেট’-এ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত সদস্য হিসেবে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানকে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য, সাবেক জাকসু ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ। তবে বিবৃতিতে কয়েকজন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও জাকসুর সাবেক নেতাদের অবগত না করে নাম ও স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল ও জাকসু নেতৃবৃন্দের যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি ও সুপারিশ জানানো হয়।
অবগত না করে নাম ও স্বাক্ষর নকলের বিষয়ে জাবি ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও মীর মশাররফ হোসেন হলের সাবেক ভিপি মো: আলমগীর হোসেন বলেন, আমার নামটা কে দিলো? আমি তো জানি না। আমার সাথে কেউ কথা বলেনি।
নামের পাশে স্বাক্ষরের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটা ভুয়া স্বাক্ষর। নাম না হয় অনুমতি ছাড়া দিয়ে দিছে। কিন্তু নামের পাশে স্বাক্ষরও বসিয়ে দিছে, এটা কোন ধরনের আচরণ? জাবির আরেকজন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও মীর মশাররফ হোসেন হলের সাবেক জিএস ড.ফারুক আহম্মদ শিপন বলেন, এখানে যে সিগনেচার রয়েছে তার ব্যাপারে আমি অবগত নই। এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা ও ভুয়া। নাম ও স্বাক্ষর নক করে বসানো হইছে।
এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাবির আরও চারজন সাবেক ছাত্রদল নেতাও জানান, তাদের অনুমতি ছাড়া বিবৃতিতে নাম ও স্বাক্ষর বসানো হয়েছে।
বিবৃতি সূত্রে জানা যায়, ড. নাহরিন ইসলাম খান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি জার্মানির ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘পরিবেশগত শাসন’ বিষয়ে মাস্টার্স এবং মারবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘যোগাযোগ ও উদ্ভাবন’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ ও গবেষণা অনুদানে ভূষিত হয়েছেন।
তিনি একজন ঐতিহ্যবাহী জাতীয়তাবাদী পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা এন আই খান বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ড. নাহরিন জাহানারা ইমাম হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ড. নাহরিন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। জাকসু নির্বাচনে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের প্রতিবাদে যে তিনজন শিক্ষক তাৎক্ষণিক পদত্যাগ ও নির্বাচন বর্জন করেছিলেন, তিনি তাঁদের অন্যতম। এছাড়া, কলাম লেখক ও টেলিভিশন আলোচক হিসেবে তিনি সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে মতামত দিয়ে আসছেন। রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কটু কথা এবং সম্প্রতি মামলা ও হুমকিমূলক চিঠির মুখও পড়তে হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সুশাসন সুনিশ্চিত করতে ড. নাহরিন ইসলাম খানকে সিন্ডিকেটে রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য হিসেবে চূড়ান্ত করার আহবান জানিয়েছেন সাবেক জাকসু ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন জাকসু ও হল সংসদের ভিপি-জিএস, সাবেক ছাত্রদল সহ ৩১ জনেরও বেশি শীর্ষ নেতা। তবে সাবেক ছাত্রদলের কয়েকজন নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নাহরিন ইসলাম খান চব্বিশের আন্দোলন পরবর্তী সময়ে মিডিয়া জগতে সরব হলেও ফ্যাসিবাদ আমলে কোনো আন্দোলন সমাবেশে ছিলেন না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ফোরামের সাবেক আহ্বায়ক ও জাকসুর সাবেক এজিএস আব্দুল আউয়াল মোল্লা বলেন, অধ্যাপক মোঃ জামাল উদ্দিন রুনু ১৯৮৯ সালে প্রায়ত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে ফুলের তোড়া নিয়ে ছাত্রদলের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করেন, সে একজন পরীক্ষিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা এবং জাকসুনির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষক হিসেবেও সে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া ১৭ বছরে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী পন্থী প্রশাসনের বিভিন্ন উপাচার্যদের দুর্নীতি , নিপীড়ন এবং দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে লড়াই সংগ্রাম করেছে। সাম্প্রতিক জুলাই,২৪ আন্দোলনে শিক্ষকদের মধ্য থেকে অন্যতম সংগঠক হিসাবে মাঠে থেকে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাভার অঞ্চলে আন্দোলন গড়ে তোলে এবং ৫ ই আগস্টে ঢাকা অভিমুখী লং মার্চ জীবন বিপন্ন হবে জেনেও সাহসিকতার সাথে নেতৃত্ব দেন। তাই আমরা জাকসু এবং ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় ভিপি এবং সাধারণ সম্পাদক পদধারীরাই শুধু তাৎক্ষণিকভাবে উপাচার্যকে তার জীবন বৃত্তান্ত সহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সিন্ডিকেট মেম্বার হিসাবে তার মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করতে বলেছি।







