ঢাবির ক্যান্টিনে বিল না দিয়ে খাওয়ার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

Post Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের ক্যান্টিনে খাবারের বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হলটির কয়েকজন ছাত্রদল নেতার নামও এসেছে। তাঁদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্যান্টিনে খাবারের বিল না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও হুমকি-ধমকির অভিযোগও উঠেছে।


রোববার হলের শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ ওঠে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কয়েকজন নিয়মিত ক্যান্টিনে খাবার খেলেও সময়মতো বিল পরিশোধ করতেন না। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ছাত্রদল নেতার নাম সামনে আসে।

 

‘ফাও খাওয়ার’ অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি হলেন বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, তার সঙ্গে আসিফ ইকবাল নিলয় ও আহসান হাবিব রায়হানও ক্যান্টিনে গিয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে বিজয় একাত্তর হল সংসদের ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের সদস্য আহনাফ আহমেদ রাফিও ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে রাফি দাবি করেছেন, তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন।

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। বলা হয়, পলাশ কয়েকদিন ধরে ক্যান্টিনে খাবার খেলেও বিল পরিশোধ করছিলেন না। নিজের প্রভাব দেখিয়ে তিনি পরে বিল দেওয়ার কথা বলতেন। 

 

এরপর তারা নিয়মিত এসে খেয়ে গেলেও তিন-চার দিন ধরে কোনো বিল দেয়নি। তাদের কাছে বিল চাওয়ারও সাহস করিনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। কথা বাইরে প্রকাশ পাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে ওই তিনজন আবার এসে রাগারাগি করে—তৌহিদ, ক্যান্টিন মালিক

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ, আসিফ ইকবাল নিলয় ও আহসান হাবিব রায়হান ক্যান্টিনে গিয়ে ম্যানেজারকে কয়েক দিন ধরে হুমকি-ধমকি দেন।  বিষয়টি তদন্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার জন্য হল প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে।

 

তবে খাবারের বিল না দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ বলেন, তিন-চার দিন আগে তিনি ক্যান্টিন মালিক তৌহিদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

 

পলাশ বলেন, “তৌহিদ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করে তাকে বললাম, ভাই দেখেন, পকেটে তো সবসময় টাকা থাকে না। যখন টাকা থাকবে না, তখন লিখে রাখলে একটা সুবিধা হয়। তখন ক্যান্টিন মালিক আমাকে বললেন, ‘ভাই, আপনার লেখা লাগবে না। আপনার যখন টাকা থাকবে না, তখন আপনি খেয়ে যাবেন, সমস্যা নাই। বিলটা যাবে, ওইটা আপনি খেয়াল রাখবেন। এরপর যখন টাকা হবে, তখন দিয়ে যাবেন।’”

 

মারধর করা বা হুমকি দেওয়ার বিষয়টা সত্য নয়। পাওনা ছিল মাত্র ২৭০ টাকা। ব্যাপারটা হচ্ছে, আমার দুই ব্যাচমেট হল সংসদের হল কমিটিতে আছে। তারা ক্যান্টিন মালিকের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দুজন ক্যান্টিনে বাকি খেয়েছিল। আহসান হাবিব রায়হান,যুগ্ম আহ্বায়ক, বিজয় একাত্তর হল, ছাত্রদল।

 

তিনি বলেন, “এরপর কাল ও পরশু মিলিয়ে আমার বকেয়া হয়েছিল ২৭০ টাকা। এ বিষয় নিয়ে আমি, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান, আসিফ এবং হল সংসদের নির্বাচিত সদস্য ও হলের যুগ্ম রাফিসহ আলোচনা করি। পরে বিষয়টি সকাল ১১টার দিকে সমাধান হয়েছিল। পরে শুনেছি এটা নিয়ে নাকি আবারও ঝামেলা হয়েছে। তখন আমি ছিলাম না।”

 

এসব বিষয়ে ক্যান্টিন মালিক তৌহিদের সঙ্গে কথা বলেছে দ্য ঢাকা ডায়েরি। তিনি বলেন, “পরশুদিনের আগের দিন দুইজন খাইছে। আগে থেকেই চিনতাম, তারা ঠিকমতো বিল দিত না। খাওয়ার পর একজন বিল দিয়েছে, আরেকজন দেয়নি। তখন আমি বিল চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি আমাকে চেনেন না? আমি বিল পরে দেব।’ তখন আমি বললাম, ‘ঠিক আছে, তাহলে সেটা আগে বলতেন।’ এরপর তারা একজনের টাকা পরিশোধ করে চলে যায়। তারা বলে, বিকেলে এসে কথা বলবে।”

 

তৌহিদ আরও বলেন, “দুপুরের দিকে প্রায় সাড়ে তিনটার সময় কাজ শেষ করে বাজারের জন্য বের হওয়ার সময় প্রভোস্ট স্যার আমাকে ডাকেন। ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে স্যারের কাছে যাওয়ার সময় ক্যান্টিনের সামনে তিনজন আমাকে ডাকেন। যারা খাবার খেয়েছিল, সেই দুজন এবং তাদের সঙ্গে একজন। আবার সেখানে ছাত্রদলের রাফি নামে একজন ছিল। তিনি হল সংসদের নেতা পরে জানতে পারি”

 

তিনি বলেন, “স্যার জরুরি ডেকেছেন বলে আমি চলে যেতে চাইলে তারা স্বাধীন বাংলা মেসের সামনে এসে আমার পথ আটকে দাঁড়ায়। তারা অভিযোগ করে, দুই বছরের সিনিয়র ভাইদের সম্মান না দিয়ে এবং তাদের কথা না শুনে কেন স্যার ডাকলে চলে যাচ্ছি। পরে স্যারের সঙ্গে কথা বলে ফেরার সময় তারা আবার আমাকে ডাকে এবং ক্যান্টিনে নিয়ে যায়।তারা নিজেদের ছাত্রদল ও কমিটির সঙ্গে থাকার পরিচয় দেয় এবং তাদের সঙ্গে কেন ভালো আচরণ করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এরপর তারা বলে, বিলের সময় হলে বিল দেওয়া হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “এরপর তারা নিয়মিত এসে খেয়ে গেলেও তিন-চার দিন ধরে কোনো বিল দেয়নি। তাদের কাছে বিল চাওয়ারও সাহস করিনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। কথা বাইরে প্রকাশ পাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে ওই তিনজন আবার এসে রাগারাগি করে। তবে তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। ম্যানেজার তাদের কী বলেছে, সেটাও আমার জানা নেই।”

 

বিল না দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবিব রায়হান বলেন, “মারধর করা বা হুমকি দেওয়ার বিষয়টা সত্য নয়। পাওনা ছিল মাত্র ২৭০ টাকা। ব্যাপারটা হচ্ছে, আমার দুই ব্যাচমেট হল সংসদের হল কমিটিতে আছে। তারা ক্যান্টিন মালিকের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দুজন ক্যান্টিনে বাকি খেয়েছিল। বাকি হওয়ার পরে ক্যান্টিন ম্যানেজার একজন ছেলেকে জিজ্ঞাসা করেছে, এই দুইজনকে আপনি চেনেন কি না। ওই ছেলে বলেছে, চিনি না। তখন ক্যান্টিন মালিক বলেছে, এরা ছাত্র বাকি খায়। অথচ ক্যান্টিন মালিক নিজেই বলছে, ‘ভাই, আপনার খান, মাঝে মধ্যে টাকা-পয়সা থাকে না এটা স্বাভাবিক। মাঝে মধ্যে বাকি খাওয়াটা স্বাভাবিক। আপনি দিয়েন, বকেয়া লেখারও দরকার নাই।

এই বিভাগের আরও খবর

ক্যাম্পাস

News Image

ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান

রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

বাজেট ১৮ লাখ হলেও সাড়ে ৩ কোটি টাকার কাজ করেছে জাকসু

জবিতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ: যুগ্ম আহ্বায়কসহ ৮ নেতাকর্মী বহিষ্কার

ঢাবির ক্যান্টিনে বিল না দিয়ে খাওয়ার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

রাবিতে ঐতিহ্যবাহী ‘কারাম পূজা’, নাচ-গানে মুখর ক্যাম্পাস

জাকসুর উদ্যোগে জাবিতে চালু হলো শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট

ঢাবিতে পরীক্ষার হলে এআই দেখে লেখার দায়ে ছাত্রদল নেতাকে ২ বছরের শাস্তি

ডাকসুর জন্য বরাদ্দ দেওয়া ডাস্টবিন ছাত্রদলকে দেওয়া হচ্ছে: রায়হান উদ্দীন

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুকে ছাত্রদলের ছবি-সংবাদ, জবি জনসংযোগ কর্মকর্তাকে শোকজ

সর্বাধিক পঠিত

রাবি প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে ধ্রুব-জিসান

৭২ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা

ডাকসু থেকে পদত্যাগের ঘোষণা সর্ব মিত্র চাকমার

রাজনীতি নিষিদ্ধ চাওয়া তিন ছাত্রী বহিষ্কার, রাতে উত্তাল তিতুমীর কলেজ

বেরোবিতে আবু সাইদের নামে হল নির্মাণের ঘোষণা

চবিতে আব্দুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মিছিল

বিএনপির তরুণ প্রতিনিধি দলে নেই জকসুর কেউ, ক্ষুব্ধ ছাত্রনেতারা

রাবি ছাত্র-উপদেষ্টার পদত্যাগ

জাবির সাবেক উপাচার্য ফারজানা ও স্বামীর আয়কর নথি জব্দের আদেশ

শেখ মুজিবকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, পাবিপ্রবির দুই শিক্ষককে ছাত্রদলের হুশিয়ারি