সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে কোনো হামলা চালানো হয়নি বলে জানিয়েছে হুথিরা।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর একদিন পর বুধবার সৌদির সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুথিরা। তাদের দাবি, মক্কা কিংবা ইসলামের অন্য কোনো পবিত্র স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার কোনো পরিকল্পনাই তাদের নেই।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন শনাক্ত করে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ড্রোনটি পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটি ধ্বংস করা হয়।
সৌদি জোটের দাবি, ধ্বংস হওয়া ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ মক্কার দক্ষিণে গিয়ে পড়ে। আল-মালিকি ঘটনাটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।
মক্কা, দুই পবিত্র মসজিদ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ উল্লেখ করে হুথিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
তবে সৌদি জোটের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে হুথিরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক দপ্তরের সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ বলেছেন, হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি। সৌদি আরবের এমন দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ এবং এর কোনো ভিত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হুথিদের একটি সামরিক সূত্রও জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে মক্কা কিংবা ইসলামের অন্য কোনো পবিত্র স্থাপনাকে লক্ষ্য করে কোনো হামলার হুমকি দেওয়া হয়নি। সৌদি আরবের এমন বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা’ বলেও আখ্যা দিয়েছে সূত্রটি।
এদিকে মক্কাকে ঘিরে ঘটনার আগে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ এলাকায় হামলার পাশাপাশি কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছে সৌদি পক্ষ।
মক্কার ঘটনায় সৌদি আরব মঙ্গলবার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। চলতি আঞ্চলিক সংঘাত শুরুর পর মক্কাকে ঘিরে এটি প্রথম এ ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা বলে জানা গেছে। একই সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
মক্কাকে ঘিরে সৌদি আরবের অভিযোগ ও হুথিদের অস্বীকৃতির মধ্যেই ইয়েমেন-সৌদি সংঘাত নতুন করে আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার প্রশ্নটি সামনে আসায় ঘটনাটি শুধু দুই পক্ষের সামরিক সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংগঠনও এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।







