পেছাচ্ছে ঢাকার মহাসমাবেশ

আরও তিন বিভাগে ১১ দলের লংমার্চ

Post Image

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আরও তিন বিভাগে লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য। এ নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি দাবি না মানলে আগামীতে কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। জোটের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশের দিনক্ষণ পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ দেশজুড়ে লংমার্চ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঘোষিত চার বিভাগের লংমার্চ কর্মসূচির সঙ্গে যোগ হচ্ছে বরিশাল, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগ। শিগগির দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে জানানো হবে। লংমার্চ শেষে ডিসেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আসবে।

জানা গেছে, ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন’, ‘জুলাই গণহত্যার বিচার’, ‘বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন’, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ’, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন’ এবং ‘সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা’—এই ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ এরই মধ্যে করেছে জামায়াত জোট। একই দাবিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লংমার্চ করবে তারা। এরপর ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কথা ছিল।


নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে প্রতিটি বিভাগের লংমার্চ কর্মসূচি পালন শেষে সরকারকে দাবি মেনে নিতে একটি নির্দিষ্ট ‘টাইমফ্রেম’ (সময়সীমা) বেঁধে দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে সরকার দাবি না মানলে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামবে ১১ দলীয় ঐক্য। সে সময় কঠোর কর্মসূচিরও ঘোষণা আসতে পারে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ কালবেলাকে বলেন, সংসদে সরকার গায়ের জোরে সবকিছু করছে। মেজরিটির জোরে অগণতান্ত্রিকভাবে বিভিন্ন বিল ও আইন পাস করিয়ে নিচ্ছে। বিরোধী দলের আপত্তি ও দাবি তারা মানছে না। সংসদে বিরোধী দলের সিদ্ধান্ত যদি এভাবে উপেক্ষা করা চলতে থাকে, তাহলে যে কোনো সময়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তিনি বলেন, বিরোধী দল ওয়াকআউট করছে। বিধিবিধানের মধ্যে থেকে সবকিছু করার চেষ্টা করছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন শুধু আমাদের একার দাবি নয়, এটা সারা দেশের মানুষের দাবি। সরকার দাবি মানলে আমাদের লংমার্চ থেমে যাবে। দাবি না মানলে সামনে আমাদের বিকল্প ভাবতে হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ কালবেলাকে বলেন, আমাদের শুরুতে পরিকল্পনা ছিল চার বিভাগে লংমার্চ শেষ করে ঢাকায় মহাসমাবেশ করব; কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত হয়েছে আরও কয়েকটি বিভাগ বাদ থেকে যাচ্ছে। সেজন্য ঢাকার মহাসমাবেশসহ লংমার্চের দিনক্ষণ নতুন করে চূড়ান্ত করা হবে।

সূত্র আরও জানায়, চলতি বছরের শেষ দিকে বা আগামী বছরের শুরুর দিকে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। তবে এর আগে সরকার জুলাই সনদ নিয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং তাদের অবস্থান কী—তা বুঝে নিতে চাইবে জোট।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে লংমার্চের সমাপনী বক্তব্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরকারকে সতর্ক করে বলেছিলেন, আমরা এখনো সংসদে আছি, আগামী অধিবেশন যোগ দেব কি না, এটা নিশ্চিত নই। কারণ জনগণের সমস্যার সমাধান যদি না আসে সেই সংসদকে কার্যকর রেখে লাভ কী? আমরা ১৬ বছর অপেক্ষা করব না।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার কালবেলাকে বলেন, সংসদে সরকার এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। গণবিরোধী গুম প্রতিরোধ ও মানববাধিকার আইনও পাস করেছে। এ ছাড়া সাইবার আইন পাসের তোড়জোড় চলছে; কিন্তু বিরোধী দলের কোনো পরামর্শ বা যৌক্তিক দাবিও তারা আমলে নিচ্ছে না। আবার সরকার বলছে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর সমাধান করতে হবে। এটা সরকারের এক ধরনের ট্র্যাপ। তারা বিরোধী দলকে সংসদে রাখতে চায়; কিন্তু তাদের কথা মানতে চায় না। মূলত বিরোধী দল যাতে মাঠের আন্দোলন না করে, সেজন্য সরকার আলোচনার কথা বলছে।

তিনি বলেন, আইন পাসের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের কোনো আপত্তি সরকার আমলে নিচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে সংসদে অধিবেশনে না যাওয়ার কথা বলা হয়েছে; কিন্তু চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী দিনে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ কালবেলাকে বলেন, আমরা রাজপথে আন্দোলন করছি, সংসদে কথা বলছি। জোটের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে একটা সময়সীমা বেঁধে দেব আমরা। এই সময়ের মধ্যে সরকার দাবি না মানলে ১১দলীয় ঐক্য চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার ৭৭টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াত জোট। এ ছাড়া সংরক্ষিত আসনে আরও ১২ জন নারী সংসদ সদস্য আছেন। সংসদে সরকারের নীতিনির্ধারণ ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নজরদারি করা, বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলা এবং সংসদীয় কমিটিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি রাজপথেও রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। সংসদের ভেতরে থেকে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা হবে, নাকি সংসদীয় কার্যক্রম থেকে সরে গিয়ে বাইরে থেকে চাপ বাড়ানো হবে তা নিয়েও জোটের ভেতরের মতভেদ রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি

সর্বশেষ খবর

আরও তিন বিভাগে ১১ দলের লংমার্চ

দেশ এখন ভালো নেই, সরকারও তা স্বীকার করতে বাধ্য: ডা. শফিকুর রহমান

১৩ সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী যারা

জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি বাকের, সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ

পদ পেতে হবে তা নয়, দলের প্রত্যেকেই সরকারের অংশ: রিজভী

সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে : রিজভী

শতাধিক শ্রমিককে টুপি পরিয়ে জামায়াতে যোগদান

বাধ্য হয়ে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে: জামায়াত আমির

সর্বাধিক পঠিত

ইরানের হামলায় ধ্বংসযজ্ঞ, ক্ষতিপূরণের ৩৯ হাজার আবেদন ইসরায়েলে

আমরা আবারও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি : নাহিদ ইসলাম

শেষ সময় পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করবে জামায়াত

নারী কর্মীদের ওপর হামলায় ইসিতে স্মারকলিপি দেবে জামায়াত

‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মানসিক বিকারগ্রস্ত, তার চিকিৎসা প্রয়োজন’

সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র নিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

ইসির প্রতীক তালিকায় যুক্ত হলো শাপলা কলি

নতুন কর্মসূচি নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক বৃহস্পতিবার

নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট প্রকাশ আজই?

বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্মানে ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিল