আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এর আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রথম লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবেই রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
লংমার্চ কোনো একক দাবিতে করা হয়নি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের লংমার্চ নিয়ে ক্রিটিসাইজ করা হয়েছে। লংমার্চ তো আমরা একটা দাবিতে করিনি। বৈষম্য দূরীকরণ, মানুষের বাঁচার, শিল্প বাঁচানোর, জ্বালানি-বিদ্যুতের দাবি ছিল; অনেকগুলো দাবি ছিল।’
একই সঙ্গে তিনি খুনিদের বিচারের দাবিকে জনগণ ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের দাবি বলেও উল্লেখ করেন।
প্রথম লংমার্চে গাড়িবহর নিয়ে যাওয়ার সমালোচনার জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘উনারা বলছেন—গাড়ির বহর নিয়ে আমরা গিয়েছি। ইয়েস, গাড়ির বহর নিয়ে গিয়েছি। আমরা আরও বড় বহর নিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু আমরা সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই প্রতীকী বহর নিয়ে গেছি। আমরা সর্বশক্তি উজাড় করে সেই বহর বিরাট করিনি।’
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রথম লংমার্চে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়ার দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা যখন ঢাকা থেকে রওনা করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছেছি রাস্তায় রাস্তায় জনগণের বিপুল সাড়া আমাদের অভিভূত করেছে। এরা সবাই কোনো দলীয় লোক ছিলেন না। এখানে সাধারণ জনগণ ছিল।’
খুনিদের বিচারের দাবিকে জনগণের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা খুনিদের বিচারের দাবি করেছি। এটা জনগণের দাবি। শহীদের মাতা-পিতার দাবি, সাধারণ মানুষের দাবি; সেই দাবির প্রতি জনগণ একত্ব ঘোষণা করেছে।’
দ্বিতীয় লংমার্চের বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমাদের লংমার্চ একটা রুটে হয়েছে। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে হবে। এ মাসের ১৯ তারিখে রংপুরের দিকে আমাদের দ্বিতীয় লংমার্চটি অনুষ্ঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে এভাবে হবে।’
লংমার্চে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়নি দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের গোটা লংমার্চ ছিল সুশৃঙ্খল। এবং এর ভিত্তিতে বড় কোনো জনদুর্ভোগ হয় নাই। তারপরও সামান্য যদি কোনো কষ্ট হয়ে থাকে, জনগণের কাছে আমরা ক্ষমা চাই, দুঃখ প্রকাশ করছি।’
এসব কর্মসূচি কোনো দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা জনস্বার্থে এই দাবি নিয়ে নেমেছি। এটা কোন দল এবং গোষ্ঠীর দাবি না। কাউকে উৎখাত করার এবং কাউকে বসানোর দাবি না। প্রত্যেকটা দাবি ছিল জনগণের অভিপ্রায়। আমরা সেই দাবিগুলো নিয়ে নেমেছি, আমরা আশাবাদী জনরায় বাস্তবায়ন হবে শেষ পর্যন্ত।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের ভূমিকা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে আমরা চাই, বিরোধী দল হিসেবে আমাদেরকে আপনারা সহযোগিতা করবেন, সমালোচনা করবেন। সমাজের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আপনারা পরামর্শ দিয়ে আমাদের পাশে থাকবেন। সমাজের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমরা যে উদ্যোগগুলা নিব, কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব; সেগুলোতে আপনারা সহযোগিতা করে জনগণের কাছে তুলে ধরবেন। আবার আমরা যদি কোনো ভুল পথে চলি আমাদের আপনারা সমালোচনাও করবেন।’
সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আলোচনাই তো করলাম এতদিন। জনগণের এই দাবি মেনে নিলে তো আমাদের লংমার্চের কোনো দরকার নেই। লংমার্চে স্বাভাবিকভাবে কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, কষ্ট হয় জনগণের, আমাদেরও হয়। তারা (সরকার) দাবি মেনে নিলেই হয়।’







