ইসলামী শরিয়া বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অধিকতর পর্যালোচনা ও তাঁদের প্রকাশ্য মতামত গ্রহণ ছাড়া তড়িঘড়ি করে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে খেলাফত মজলিস।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন-১৮৮২-এর সঙ্গে ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযুক্ত করে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হিসেবে পিতা-মাতার কাছ থেকে সন্তানদের সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে দাতা তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করতে পারবেন। তবে দাতার মৃত্যুর আগে গ্রহীতা মারা গেলে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি তাঁর ওয়ারিশদের কাছে চলে যাবে।
খেলাফত মজলিসের নেতারা বলেন, সিভিল আইনটি বাহ্যিকভাবে সুন্দর মনে হলেও এর মাধ্যমে একজন বা কয়েকজন উত্তরাধিকারীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং অন্যদের বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে শরিয়াহসম্মত ন্যায়বিচার ও ফারায়েজের চেতনা লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাঁরা আরও বলেন, সংশোধিত আইনের কিছু দিক হানাফি ফিকহে প্রচলিত হেবার ধারণার সঙ্গেও গুরুতর বিতর্ক সৃষ্টি করে। তাই সংশোধিত আইনটি শরিয়তের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা বিজ্ঞ আলেম ও ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে সরকারকে সংশোধিত আইন নিয়ে ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রকাশ্যে গ্রহণ এবং বিষয়টি অধিকতর পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামী আইনের নিজস্ব কাঠামো কাজে লাগিয়ে সংশোধিত সিভিল আইনের পরিবর্তে আরও শরিয়তসম্মত সমাধান বের করা সম্ভব।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “সরকারকে মনে রাখতে হবে, শরিয়া অনুমোদন করে না—এমন আইন বাংলাদেশে আর গ্রহণযোগ্য হবে না।”
বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু।







