নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজ ছাত্রাবাসে গত ৫ আগস্ট ছাত্রদল ও বহিরাগতদের হামলা, শিক্ষার্থীদের মারধর এবং ব্যক্তিগত মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর কলেজ প্রশাসন ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করলেও সেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও বহিরাগতদের অবস্থান এবং বিভিন্ন কক্ষের তালা ভেঙে মালামাল নেওয়ার অভিযোগ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৫ আগস্ট হামলার সময় তাদের মারধর করে মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত মালামাল নিয়ে নেওয়া হয় এবং ছাত্রাবাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। ওইদিনই কলেজ প্রশাসন ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাস ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রাবাসে অবস্থান করতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রাবাস বন্ধ থাকার সুযোগে বিভিন্ন কক্ষের তালা ভেঙে মালামাল লুট ও ছিনতাই করা হয়েছে। পাশাপাশি বহিরাগতদের এনে ছাত্রাবাসে আড্ডা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক কাপড়ে ছাত্রাবাস ছাড়তে বাধ্য হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে তারা জানান।
পরিস্থিতি সমাধানে গত ১৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম সাহেবের সঙ্গে দেখা করেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় তিনি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির—উভয় পক্ষকে ডেকে কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ছাত্রাবাস স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর পরদিন কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার জন্য ছাত্রশিবিরের একটি প্রতিনিধি দল গেলেও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কেউ সেখানে উপস্থিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, ছাত্রদলের নেতাদের একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে, ছাত্রাবাস প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ থাকা অবস্থায় গত ২১ আগস্ট শুক্রবার ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে প্রকাশ্যে ছাত্রাবাসে সভা ও স্লোগান দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, এভাবে ছাত্রাবাস বন্ধ থাকার পরও একটি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সেখানে অবস্থান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে ছাত্রাবাসের নিয়ন্ত্রণ কলেজ প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
শিক্ষার্থীরা দ্রুত ছাত্রাবাসের নিয়ন্ত্রণ কলেজ প্রশাসনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, লুট ও ভাঙচুরের অভিযোগ তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের মালামাল উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এবিষয়ে বক্তব্য জানতে ছাত্রদল ও কলেজ প্রশাসনকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।







