মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়া স্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুক মেসেঞ্জারে ছবি দেয়াকে কেন্দ্র করে দায়ের করা অভিযোগের তদন্তে আটক এক আসামি হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে তিন ঘণ্টা পর হাতকড়াসহ ওই আসামিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে, পালানোর সময় হাতে হাতকড়া ছিল না।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা দুপুর ১২টার দিকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান হরিরামপুর থানা ওসি মুহাম্মদ আফজাল হোসেন। এর আগে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আন্ধারমানিক বাজার ব্রিজ এলাকায় পালানোর ঘটনা ঘটে।
পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামির নাম মাহিম। তিনি দড়িকান্দি এলাকার স্কুল শিক্ষক আলমাছ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আন্ধারমানিক এলাকায় তার সাবেক স্ত্রীর বিয়ে হলে দ্বিতীয় স্বামীর পরিবারের একজনকে মেসেঞ্জারে ছবি পাঠানোকে কেন্দ্র করে মাহিমের বিরুদ্ধে হরিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন এসআই মো. ফারুক শেখকে দায়িত্ব দেন। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এসআই মো. ফারুক শেখের নেতৃত্বে কনস্টেবল মো. নজরুল ইসলাম ও কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম আন্ধারমানিক এলাকায় অভিযান চালান। পরে মাহিমের হাতে হাতকড়া পরিয়ে তাকে থানায় নেয়ার জন্য পুলিশ সদস্যরা থানার গাড়িতে রওয়ানা হন। পথে আন্ধারমানিক বাজার থেকে পুলিশ বহনকারী গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান মাহিম।
স্থানীয় আব্দুর রহিমসহ বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মাহিম নামের এক যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় আন্ধারমানিক বাজার থেকে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় সে গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর পলাতক মাহিমকে গ্রেপ্তারে হরিরামপুর থানা পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা পর তার বন্ধু, স্থানীয় ও বাবা-মায়ের সহযোগিতায় মাহিমকে এনে থানায় দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার এসআই মো. ফারুক শেখ বলেন, মাহিমকে আটক করতে গেলে সে পালিয়ে যায়। তখন তার হাতে হাতকড়া ছিল না। পরে তাকে আটক করে থানায় পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেনের মুঠোফোনে জানান, মাহিম পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।







