গ্যাস সংকটের মধ্যেই দেশজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের।
‘সকাল, দুপুর কিংবা রাত নেই, সবসময়ই বিদ্যুৎ যাচ্ছে- এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের দেড় ঘণ্টা থাকে না,’ এভাবেই বলছিলেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ।
তীব্র গরমে ধারাবাহিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বিপাকে পড়েছেন মাগুরা জেলার বাসিন্দা দেবাশিষ বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘গভীর রাতে ঘুমের মধ্যে বিদ্যুৎ গিয়ে আর আসার খবর থাকে না, বাচ্চাকাচ্চা মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে বসে থাকে।’
বেশ কয়েকটি জেলায় খোঁজ নিয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অনেকটা একই রকম তথ্য পাওয়া গেছে। সাধারণ গ্রাহকদের দাবি, দিনে রাতে সবসময়ই যাওয়া-আসা করছে বিদ্যুৎ।
এদিকে, তীব্র গ্যাস সংকটের পর এবার বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির বিরূপ প্রভাব পড়েছে দেশের শিল্প খাতেও। নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের শিল্প এলাকায় তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে কারখানা বন্ধ রাখার খবর জানিয়েছেন উদ্যোক্তাদের অনেকে।
গতকাল পর্যন্ত একটু একটু করে জ্বালানি পাচ্ছিলাম, আজ তাও বন্ধ হয়ে গেছে,’ বলছিলেন নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
ধারাবাহিক লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেককে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে।
এদিকে, দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহকরা হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে দেশের গ্রামাঞ্চলে দশ থেকে বারো ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসগুলোতে নিরাপত্তা চেয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) পুলিশ প্রধানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এ ছাড়া, নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কাছে পৃথক আবেদন করেছে গোপালগঞ্জ, নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলার বিদ্যুৎ অফিস।
সব মিলিয়ে তীব্র গ্যাস সংকট এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দেশজুড়ে সংকট বাড়ছে। যদিও বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তবে এই পরিস্থিতি কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে সেটি নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তবে বুধবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ বিভাগ সারাদেশে জেলা প্রশাসন মার্কেট ও দোকান-পাট বন্ধের সময় এ নিয়ে আনা সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনাও দিয়েছে।
দেশের গ্রামাঞ্চলে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের একাধিক স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের এরিয়া অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া পার্বতীপুর জোনাল অফিসের আওতাধীন ভবের বাজার ইনডোর উপকেন্দ্রেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলা-ভাঙচুরের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।







