বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে বিষাদময় হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন আর্জেন্টিনার তারকা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। জাতীয় দল থেকে এখন তার ‘সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে কি না’— তা নিয়ে তিনি নতুন করে চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানিয়েছেন।
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে দলকে বিশ্বসেরার ট্রফি এনে দিয়েছিলেন মার্তিনেজ। তবে রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ১০ জনের আর্জেন্টিনা দল নিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও স্পেনকে ঠেকাতে পারেননি তিনি। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে পরাজয় নিশ্চিত হয় অ্যালবিসেলেস্তেদের।
হৃদয়ভঙ্গ করা এই পরাজয়ের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন ৩৩ বছর বয়সী এই অ্যাস্টন ভিলা তারকা। যেখানে তিনি জাতীয় দল থেকে নিজের অবসরের আভাস দেন।
ইনস্টাগ্রামে মার্তিনেজ লেখেন, আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা আবারও বিশ্ব জয় করব, ট্রফিটি আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে এনে নতুন ইতিহাস গড়ব। সত্যি বলতে, এই হারের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অনেক বিষয় নিয়ে এখন ভাবার আছে— কীভাবে সামনে এগোব কিংবা এবার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে কি না।
দেশবাসীকে হতাশ করার অনুশোচনা প্রকাশ করে ৬৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই গোলরক্ষক আরও লেখেন, আমি সত্যিই আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমার দেশ ও সতীর্থদের সাহায্য করার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।
রোববারের ফাইনালে ম্যাচের শেষভাগে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে চাপে পড়ে যায় আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচে স্পেনের আধিপত্যের সামনে আলভারেজ-মেসিরা ১১৬ মিনিটের আগে কোনো শটই লক্ষ্যবস্তুতে রাখতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের গোলে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন চুরমার হয় আর্জেন্টিনার।
এদিকে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর চরম হতাশায় স্প্যানিশ ফুটবলারদের ওপর চড়াও হন আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মোলিনা ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তাদের এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ওয়েইন রুনি। বিবিসির বিশ্লেষণে রুনি বলেন, আর্জেন্টিনার এমন আচরণ আমার কাছে মোটেও নতুন কিছু নয়। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর তাদের প্রতিক্রিয়াও আমরা দেখেছি। খেলায় হার-জিত থাকবেই, তবে পরাজয় মেনে নেওয়ার মধ্যে সৌজন্য থাকা উচিত। তাদের এই আচরণ অত্যন্ত হতাশাজনক।







