যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাত মেলাননি আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর রানার্সআপের পদক নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১–০ গোলে হারায় স্পেন। ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলেই জয় নিশ্চিত করে ‘লা রোহা’। এর মধ্য দিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন।
ফাইনালে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের কেন্দ্রে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সঙ্গে শুরু করেছিলেন ২৮ বছর বয়সী রোমেরো। তবে চোটের কারণে ৭০ মিনিটে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। এর আগে প্রথমার্ধের শেষ দিকে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তার সেন্টারব্যাক সতীর্থ মার্তিনেজও। তবে মাঠ ছাড়ার পরও আলোচনায় থাকেন টটেনহামের এই ডিফেন্ডার। পদক বিতরণের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে তিনি আলোচনার জন্ম দেন।
ট্রাম্প দুই দলের খেলোয়াড়দের পদক দেওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের ব্যক্তিগত পুরস্কারও তুলে দেন। রোমেরো তার দুই পাশে থাকা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবামের সঙ্গে হাত মেলান। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে হাত মেলাননি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া, শেইনবাম ও ইনফান্তিনো। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও সেখানে ছিলেন। ট্রাম্পের সঙ্গে তার একাধিকবার প্রকাশ্য বিরোধ হয়েছে।
বিশ্বকাপের ফাইনালে উপস্থিত হওয়া প্রথম দায়িত্বশীল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ম্যাচের আগে তাকে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত হতে দেখা যায়। ইনফান্তিনো তাকে ট্রফিটি স্পর্শ করতে উৎসাহিত করেন। ট্রাম্পও তাতে সাড়া দেন।
ফাইনালের আগে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোকে ঘিরে প্রতিবাদের প্রস্তুতিও ছিল। কয়েকটি অধিকারকর্মী সংগঠন ম্যাচের আগে দর্শকদের মধ্যে ‘লাল কার্ড’ বিতরণ করে। ট্রফি তুলে দেওয়ার সময় ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর প্রতিবাদে দর্শকদের সেগুলো প্রদর্শনের কথা ছিল
ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বিশ্বকাপ আয়োজনের ইচ্ছার কথা জানান ট্রাম্প। ফক্স স্পোর্টসকে তিনি বলেন, সংখ্যার ভিত্তিতে তারা আবারও বিশ্বকাপ আয়োজনের অনুরোধ করবেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আবার এমন আয়োজন করতে হবে এবং তিনি জীবিত থাকতেই সেটি করতে হবে।
ফাইনালের সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে অবশ্য সরাসরি কোনো পূর্বাভাস দেননি ট্রাম্প। তবে আর্জেন্টিনার দিকে তার কিছুটা ঝোঁক ছিল। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে তার বন্ধু উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, লিওনেল মেসির বিপক্ষে বাজি ধরা কঠিন।
মেসির একটি দুর্দান্ত মুহূর্তের প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো নিয়ে তাকে নিয়মিত তথ্য দেন তার ছেলে ব্যারন এ কথাও জানান তিনি। ট্রাম্পের সঙ্গে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেয়ির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে তার সম্পর্ক ততটা উষ্ণ নয়।
বিশ্বকাপের ফাইনালে অবশ্য উপস্থিত ছিলেন না মিলেয়ি। কুসংস্কারের কারণে তিনি ঘরে বসেই ম্যাচ দেখেছেন। আর্জেন্টিনার আগের ম্যাচগুলোতে যে ভারী জ্যাকেট পরেছিলেন, ফাইনালের সময়ও একই জ্যাকেট পরে ছিলেন তিনি। এর আগে গত বছর একই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালেও আলোচনায় এসেছিলেন ট্রাম্প। চেলসি জেতার পর দলটির অধিনায়ক রিস জেমসের সঙ্গে উদ্যাপনে অংশ নিয়ে ট্রফি তোলার মুহূর্তে তাকে দেখা যায়।
এবার স্পেনকে ট্রফি তুলে দেওয়ার পর ট্রাম্পও দলের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যান। পরে ইনফান্তিনো তাকে সেখান থেকে কিছুটা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ফাইনালের আগে ও পরে স্টেডিয়ামে ট্রাম্পকে ঘিরে দর্শকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়াও শোনা যায়। মাঠে প্রবেশের সময় তাকে দুয়ো ও শিসের শব্দের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। ম্যাচের সময় স্টেডিয়ামের স্বাভাবিক শব্দের মাত্রা প্রায় ৭৮ ডেসিবেল থাকলেও ট্রাম্পকে ঘিরে দুয়োর সময় তা ৮৪ ডেসিবেলে পৌঁছায়।
কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জেতা আর্জেন্টিনা এবার সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি। ফাইনালে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় তারা। আর সেই ম্যাচের পর ট্রাম্পের সঙ্গে রোমেরোর হাত না মেলানোর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তথ্যসূত্র: স্কাই নিউজ, ইয়াহু স্পোটর্স







