বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাখার উদ্যোগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। মেধাবীদের রাজনীতিতে আসতে হবে। মেধাবীরা রাজনীতিতে এলে রাষ্ট্র আরও ভালোভাবে পরিচালিত হবে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইসমাইল হোসেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের সময়ের সাথে সাথে সবকিছুর সাথে খাপ খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী ডাইনোসর টিকে থাকতে পারেনি, কিন্তু তেলাপোকা এখনও টিকে আছে। কারণ, তেলাপোকার অভিযোজন ক্ষমতা বেশি। জীবনের ক্ষেত্রেও একই বিষয়। পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে বদলাতে না পারলে কেউ টিকে থাকতে পারবে না।
শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী। কিন্তু এই তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে না পারলে দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের (কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুবিধা) সুযোগ নষ্ট হবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু সার্টিফিকেট দেয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দক্ষ ও যোগ্য মানুষ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সময়কাল খুবই সীমিত। এই সময়কে কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যতে অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়বে। চীন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব দেশ দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করেই অর্থনৈতিকভাবে এগিয়েছে।
এ সময় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করার পর চাকরির জন্য সবাইকে ছুটাছুটি করতে হয়। বিসিএসের জন্য ৫-৬ বছর প্রস্তুতি নিতে হয়। আইইএলটিএসের জন্য দৌড়াতে হয়। বিভিন্ন ভাষা শিখার জন্য ছুটাছুটি করতে হয়। তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয় ৪-৫ বছর পড়িয়ে কী ভূমিকা রাখল? বিশ্ববিদ্যালয় যদি দক্ষতা তৈরি করতে পারে, তাহলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি কর্মক্ষেত্রে যেতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু ভালো সিজিপিএ অর্জন করলেই হবে না, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পাইথন, এক্সেল, গবেষণা, পরিসংখ্যান এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে। ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে এগুলোই আপনাকে এগিয়ে রাখবে।
অর্থনীতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, অর্থনীতি আমাদের বলে পৃথিবীতে সম্পদের স্বল্পতা রয়েছে। কিন্তু সম্পদের অভাবের চেয়ে বড় সমস্যা সম্পদের অসম বণ্টন। বিশ্বের ৫ ভাগ মানুষের হাতে ৯০ ভাগ সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ায় বৈষম্য বাড়ছে। সুশাসন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিয়েও কথা বলেন সাদ্দাম। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করিয়ে যদি থাকার ব্যবস্থা না করা যায়, তাহলে ভর্তি করেন কেন? আবাসন না দিতে পারা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। আর রাষ্ট্র ক্ষমতায় যারা থাকে তাদের পরিকল্পিত একটি নকশা এটা। তারা ইচ্ছে করেই এই সংস্কৃতি চালু রেখেছে। যেন শিক্ষার্থীরা হলের সিটের জন্য বড় ভাইয়ের কাছে যায়। যার ফলে গণরুম-গেস্টরুমের সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এর ওপর ভর করে তাদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভালো বন্ধু নির্বাচন করতে হবে, শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। যে শিক্ষকের ভালো গবেষণা আছে, তার কাছেই বেশি বেশি যান। গ্রুপ স্টাডি করুন, একে অপরকে সহযোগিতা করুন।
নবীন বরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন। সঞ্চালনা করেন শাখা সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রায় সাত শতাধিক শিক্ষার্থীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা।







