গরু জবাইয়ে বাধা নেই তামিলনাড়ুতে, থালাপতির বড় জয়

Post Image

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকারের বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক জয় হলো।

আইনি সংবাদমাধ্যম লাইভ ল-এর বরাতে সোমবার (১৩ জুলাই) এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুজুড়ে বাকরিদ (ঈদুল আজহা) বা অন্য যে কোনো দিন গরু এবং বাছুর জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছিল। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ লিভ পিটিশন দায়ের করে তামিলনাড়ু সরকার। মামলার শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।

শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণ করেছেন, হাইকোর্টের রায়ের যে অংশে রাজ্যব্যাপী এই নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে, তা প্রাথমিকভাবে পুনর্বিবেচনা বা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষে আইনি লড়াই লড়েন বিশিষ্ট প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি।

সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু সরকার যুক্তি দেয়, মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই ঢালাও নির্দেশটি রাজ্যে প্রচলিত ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮’-এর সরাসরি পরিপন্থি। এই আইন অনুযায়ী, যেসব গরুর বয়স ১০ বছরের বেশি এবং যেগুলো কাজ বা প্রজননের জন্য অনুপযুক্ত বলে সরকারিভাবে প্রত্যয়িত, সেগুলো জবাই করার আইনি অনুমতি রয়েছে।

রাজ্য আরও জানায়, কসাইখানাসংক্রান্ত অন্যান্য আইনগুলো মূলত পশুপালনের নিয়ম ও জবাইয়ের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু কোনোভাবে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না। ফলে হাইকোর্টের এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞা মূলত আদালতের মাধ্যমে নতুন করে আইন তৈরি করার মতো একটি বেআইনি প্রচেষ্টা।

গত ২৭ মে ঈদুল আজহার ঠিক আগের দিন মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণের বেঞ্চ এই বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। ‘হিন্দু মক্কাল কাচি’ নামক সংগঠনের সদস্য কে সূর্য প্রশান্ত একটি আবেদন দায়ের করেছিলেন। মূল আবেদনে কেবল কোয়েম্বাটুর এলাকার নির্দিষ্ট কিছু স্থানে পশু জবাই সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ চাওয়া হয়েছিল।

কিন্তু হাইকোর্ট তার চেয়েও একধাপ এগিয়ে দুগ্ধ উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতির দোহাই দিয়ে এবং সুপ্রিম কোর্টের পুরোনো কিছু রায়ের সূত্র ধরে পুরো রাজ্যজুড়ে গরু জবাই নিষিদ্ধ করে দেয়। রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, হাইকোর্টের এই রায়টি অভ্যন্তরীণভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ। কারণ আদালত এক লাইনে নির্দিষ্ট জায়গায় জবাইয়ের কথা বলে, অন্য লাইনে আবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথা বলেছে।

তাছাড়া পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, প্রশাসন আগে থেকে খোলামেলা জায়গায় কোরবানি বন্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল, যা হাইকোর্ট পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে

এই বিভাগের আরও খবর

আন্তর্জাতিক

News Image

কাতারে শুরু প্রথম বাংলাদেশি আম উৎসব

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

বিজেপি’র দূর্গে ধস, বিহার বিধানসভা উপনির্বাচনে চমক প্রশান্ত কিশোরের

বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

ওয়াশিংটন-তেহরান সংলাপ শুরু সোমবার, জানালেন ট্রাম্প

মোদির মন্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড়

ভারতে ফের বিক্ষোভের উত্তাপ, মোদির বাসভবন অভিমুখে মিছিলের ডাক

ইরানে ভয়াবহ হামলার প্রস্তুতি নিয়েও শেষ মুহূর্তে স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

গালাগালির অভিযোগ তুলে গভীর রাতে হঠাৎ ভিডিও বার্তা মোদির

৩০টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তনের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

সর্বাধিক পঠিত

নতুন বছরে বাড়লো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা!

শ্রীলঙ্কায় গণ-অভ্যুত্থানে গণপিটুনিতে হত্যার দায়ে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

ইরানে হামলা চালিয়ে মিসাইল সংকটে যুক্তরাষ্ট্র: ইইউ

হরমুজ প্রণালী পাহারায় মিত্রদের পাশে পাচ্ছেন না ট্রাম্প

ইরানে হামলা যুক্তরাজ্য সমর্থন না দেওয়ায় ট্রাম্প: ‘সম্পর্ক আগের মতো নেই’

আরাফি ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য নির্বাচিত

আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

নেপালে ভয়াবহ সহিংসতা-মসজিদে ভাঙচুর, সীমান্ত বন্ধ করলো ভারত

ইরানের হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ বিধ্বস্ত

নিজস্ব ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া আনছে ইরান