গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে ১১ দলীয় জোট এক চুলও সরে আসবে না বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এ দাবিতে নানা ধরনের চাপ থাকলেও জাতির সঙ্গে বেইমানি করব না। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে।’
আজ শনিবার বিকেলে রংপুর নগরীর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধ এবং উত্তরাঞ্চলের জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আজকে আপনাদের কথা দিচ্ছি, আমাদের বিভিন্নভাবে এ গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা, আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি। লড়াই আমরা করে যাব। গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করব, ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণও সরব না। এ আবু সাইদের রক্তে ভেজা রংপুরে আরেকবার এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে গেলাম।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই দেশের আমাদের সন্তানেরা আন্দোলন করেছিলেন। সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একসময় বলেছিলেন, দুটি ভোট দেবেন—একটি তার দলকে, আরেকটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট। তিনি প্রথম প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। কিন্তু দ্বিতীয়টি রক্ষা করেননি।”
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তিস্তার বালুচরে ‘কোদাল মেরে’ প্রথমেই বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রা শুরু করব। নির্বাচনের আগে তিস্তা নিয়ে আন্দোলন করে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও চলতি বাজেটে এ প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।”
তিনি বলেন, ‘আমরা আর কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এ সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে আগামীতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দলের সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাই-পানাই চলবে না।’
রংপুরকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার কথাও তুলে ধরেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘শুধু ঘোষণা দিয়ে কৃষির রাজধানী গড়ে তোলা সম্ভব নয়; এ জন্য মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন। এ অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত আলু হিমাগারে সংরক্ষণে প্রতি বস্তায় ৬০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এটি জুলুম। কৃষকদের জন্য ন্যায্য খরচে সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং সব কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তব্যের শেষদিকে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা মাথা নত করব না। আমরা বীরের জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে বিশ্ব দরবারে দাঁড়াব। কোনো আধিপত্যবাদের কাছে আমরা নতি স্বীকার করব না। আবু সাঈদ এবং আবু সাঈদের বন্ধুরা, তোমাদের আত্মার কাছে আমরা অঙ্গীকার করছি আরেকবার, আমরা বৈশ্বিক মহীন বাংলাদেশ গড়ব ইনশাআল্লাহ। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের কবর দেওয়া হবে।’
বিরোধীদলীয় হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।







