বয়স ৩৯ ছুঁইছুঁই। কিন্তু মাঠে তার ক্ষুধা, ছন্দ আর প্রভাব যেন সময়কেও হার মানাচ্ছে। চলতি বিশ্বকাপে মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার সামনে উঠে এসেছেন লিওনেল মেসি।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে শুধু বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডই নিজের করে নেননি, নিশ্চিত করেছেন আর্জেন্টিনার নকআউট পর্বও। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দুই ম্যাচে করা পাঁচ গোলের সবকটিই এসেছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের পা থেকে।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও জোড়া গোল করে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন পাঁচে। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এখন সবচেয়ে এগিয়ে আছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুটা অবশ্য সুখকর ছিল না মেসির জন্য। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি।
অষ্টম মিনিটে পেনাল্টি নিতে গিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। কিন্তু তার শট পোস্টের ডান পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। গোলরক্ষক সঠিক দিক অনুমান করলেও তাকে কোনো সেভ করতে হয়নি। ফলে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষা আরও কিছুটা দীর্ঘ হয়।
২১ মিনিটে আবারও সুযোগ তৈরি করেন মেসি। কাট-ইন করে ডি-বক্সে ঢুকে শট নিলেও ডেভিড আলাবার স্পর্শে বলের গতি বদলে যায় এবং গোলরক্ষক আলেক্সান্ডার শ্লাগার বিপদ সামাল দেন।
৩৩ মিনিটে প্রায় নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। শ্লাগারের ভুল ক্লিয়ারেন্স সরাসরি তার পায়ে এলেও ফাঁকা পোস্টে নেওয়া শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে দেন আলাবা।
তবে ৩৮ মিনিটে আর কোনো বাধাই তাকে থামাতে পারেনি।
নিজের তৈরি করা আক্রমণ থেকেই পেনাল্টি বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান মেসি। বিশ্বকাপে নিজের ১৭তম গোল করে তিনি ভেঙে দেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড। একই সঙ্গে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
প্রথমার্ধে সেই এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় আলবিসেলেস্তেরা।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ৬৩ মিনিটে এনজো ফের্নান্দেসের শক্তিশালী শট ব্লক করে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ। ৭৪ মিনিটে নিকোলাস গঞ্জালেসের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।
৮৭ মিনিটেও গঞ্জালেস ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও তার শট ব্লক হয়ে যায়। তবে ম্যাচের শেষদিকে আর ভুল করেনি আর্জেন্টিনা।
ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের নেতৃত্বে দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ তৈরি হয়। আলভারেসের শট শ্লাগার ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল চলে আসে মেসির সামনে।
প্রথম প্রচেষ্টা সাইওয়াল্ডের গায়ে লেগে ফিরে এলেও দ্বিতীয়বার গোললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দানসোকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান মেসি। তাতেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়।
জোড়া গোলের এই ম্যাচে মেসি মোট চারটি শট নিয়েছেন লক্ষ্যে, যার দুটি জালে জড়িয়েছে। পেনাল্টিটি কাজে লাগাতে পারলে হ্যাটট্রিকও হতে পারত তার।
দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা। এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করেছে শেষ ষোলোর টিকিট। আর পাঁচ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এখন সবার ওপরে অবস্থান করছেন লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি যেন আবারও প্রমাণ করছেন—রেকর্ড ভাঙা আর ইতিহাস লেখা এখনো তার প্রিয় কাজ।







