এ দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে কখনোই ক্ষমতায় আনবে না বলে দৃঢ়তার সঙ্গে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, এই জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল এবং আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছিল। তাই এদেশের মানুষ কোনো দিন তাদের ক্ষমতায় বসাবে না।
তিনি আরো বলেন, একটা দল আছে, তারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে। নামটা জানেন তো? এ সময় উপস্থিত জনতা চিৎকার করে বলে ওঠেন—'জামায়াত ইসলামী'। মন্ত্রী তখন জনতার উল্লাসের মধ্যে বলেন, নামটা জোরে বলতে হবে। মিথ্যা কথা বলে, ধর্মের কথা বলে এ দেশের রাজনীতি হবে না। সত্য কথা বলে রাজনীতি করতে হবে।
বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জে অবস্থিত পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চত্বরে জেলা বিএনপির আয়োজিত এক রাজকীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর এলজিআরডি মন্ত্রী পরিত্যক্ত বিমানবন্দরটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিন মন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়েন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়। লাল গালিচার এই রাজকীয় সংবর্ধনায় তিন মন্ত্রীই এলাকার মানুষের ভালোবাসায় অভিভূত হন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিমানবন্দরটি চালুর বিষয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।
বগুড়া ও ঠাকুরগাঁওয়ের বন্ধ বিমানবন্দর দুটি চালুকরণের বিষয়টি ইতিমধ্যে পরিকল্পনা বিভাগের 'সবুজ পাতায়' অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
দ্রুতই এর সম্ভাব্যতা যাচাই (সার্ভে) ও সংস্কার কাজ শুরু হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এই বিমানবন্দরে পুনরায় উড়োজাহাজ উড়বে, ইনশাল্লাহ।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের সভাপতিত্বে এই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ডক্টর ইসরাফিল শাহীন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাক্তার আব্দুস সালাম, জাহিদুর রহমান, ইএসডিও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ্জামান, প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ স্থানীয় উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সুধীজন এবং দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।







