পাকিস্তান সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত অত্যাধুনিক স্থল-উৎক্ষেপণকারী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’-এর সফল প্রশিক্ষণ উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে।
দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সেনাবাহিনী রকেট ফোর্স কমান্ডের তত্ত্বাবধানে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে।
মূলত সেনাসদস্যদের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ক্ষেপণাস্ত্রটির বিভিন্ন কারিগরি উপ-প্রক্রিয়া যাচাই করাই ছিল এই প্রশিক্ষণমূলক উৎক্ষেপণের প্রধান উদ্দেশ্য। এই ক্ষেপণাস্ত্রটির নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করার ক্ষমতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার সক্ষমতা আগের সংস্করণগুলোর চেয়ে আরও উন্নত করা হয়েছে বলে সামরিক সূত্রে জানানো হয়েছে।
আইএসপিআর-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ফাতাহ-৪’ ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যাধুনিক এভিওনিক্স এবং সর্বাধুনিক নেভিগেশনাল প্রযুক্তিতে সজ্জিত, যা অনেক দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এই সফল পরীক্ষায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানরা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তারা ‘ফাতাহ’ সিরিজের এই ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নের পেছনে নিয়োজিত বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিরলস পরিশ্রম ও কারিগরি দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এই অর্জনকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাকিস্তান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ধারাবাহিক সাফল্য প্রদর্শন করল। এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী রকেট ফোর্স কমান্ড তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ফাতাহ-২’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল।
গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সেই পরীক্ষার সময় স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানস ডিভিশন এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া তারও এক সপ্তাহ আগে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের নিজস্ব জাহাজ-বিধ্বংসী আকাশ-উৎক্ষেপণকারী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘তৈমুর’-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করে, যা সমুদ্রসীমায় শত্রুপক্ষকে শনাক্ত ও প্রতিহত করতে নৌবাহিনীর শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত প্রেক্ষাপটে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে দেশীয় প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। ‘ফাতাহ-৪’-এর এই সফল উৎক্ষেপণ পাকিস্তানের সামরিক শক্তির সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক মহলে পুনরায় জানান দিল।







