জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি এলাকায় একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগকর্মী সোলায়মান বাদশা জামিনে মুক্ত হয়ে আবার প্রকাশ্যে মিছিলে অংশ নিয়েছেন। গত শুক্রবার নগরের ষোলশহর এলাকায় ১০-১৫ জনকে নিয়ে মিছিল বের করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মিছিলটিতে নেতৃত্বও দেন সোলায়মান। অথচ তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। এই বিষয়ে জানতে পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহেদুল ইসলামের মুঠোফোনে বারবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।
শুক্রবারের ওই মিছিলের ভিডিও শেয়ার করেন পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ভিডিওটি শুক্রবারের বলে নিশ্চিত করেছেন মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের এক কর্মী।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভোরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কালুয়াই গ্রাম থেকে সোলায়মান বাদশাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সে সময় র্যাব জানিয়েছিল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ৪ আগস্ট তিনি একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালান। ওই ঘটনায় চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইমরান হোসেন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় তার বাবা কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
সোলায়মান বাদশার বিরুদ্ধে নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের আমলে নগরের দুই নম্বর গেট থেকে অক্সিজেন মোড় পর্যন্ত এলাকা তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে ভাড়াটে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-সবখানেই তার প্রভাব ছিল।
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাছিম উদ্দিন সোহেল হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হিসেবেও সোলায়মানের নাম রয়েছে। অভিযোগ আছে, নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ফিনলে স্কয়ার, চিটাগং শপিং কমপ্লেক্স, বিপ্লব উদ্যান, কর্ণফুলী কাঁচাবাজার এলাকা জুড়ে ভ্যানগাড়ি বসিয়ে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করতেন তিনি ও তার সহযোগীরা।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দুই নম্বর গেট, ষোলশহর স্টেশন, তুলাতুলি, সিগনাল এলাকা, আল-ফালাহ গলি ও মেয়র গলিসহ আশপাশ এলাকায় সংঘটিত মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, দখল-বেদখল, অপহরণ, অবৈধ গেস্ট হাউস পরিচালনা, অস্ত্র ব্যবসা ও ভাড়াটে খুনের ঘটনায় তার গ্রুপের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল। তবে ভয়ের কারণে তখন কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতেন না।
এদিকে, সোলায়মানকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাইন্ডেশনের মহাসচিব জিয়া হাবিব আহসান বলেন, জুলাই আন্দোলনে অস্ত্র হাতে গুলি চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগের আসামি কীভাবে এত সহজে জামিন পেলেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।







