কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই আলোচনা আয়োজন ও মধ্যস্থতা করায় পাকিস্তানকে ধন্যবাদ দিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক উদ্বেগ, যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক সংঘাতের অবসানের প্রচেষ্টা নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
রোববার সকালে সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তার এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে ইসমাইল বাকাই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা সহজতর করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতা ও বিদ্বেষের অভিজ্ঞতা আমরা ভুলিনি এবং ভুলবও না। ঠিক যেমন আমরা দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় তাদের এবং ইসরাইলের করা জঘন্য অপরাধ ক্ষমা করব না’ তিনি গত বছরের জুনে এবং এই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিরা তেহরানের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় তাদের সকল শক্তি, অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান ব্যবহার করেছেন। আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠ, প্রিয়জন এবং দেশবাসীর গভীর শোক ইরানি জাতির স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় জন্য আমাদের সংকল্পকে আগের চেয়ে আরো বেশি শক্তিশালী করেছে।’
মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এবং মহৎ ইরানি সভ্যতার প্রতি আমাদের মহান ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে কোনো কিছুই আমাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না এবং দেওয়া উচিতও নয়। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত করতে এবং দেশের কল্যাণে কূটনীতিসহ সকল উপায় ব্যবহারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক ইস্যু, যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে ও এই অঞ্চলে যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
তার মতে, ‘এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করে অপর পক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা, লোভ ও অবৈধ দাবি থেকে বিরত থাকা এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও ন্যায্য স্বার্থকে মেনে নেওয়ার ওপর।’
মুখপাত্র সবশেষে বলেন, ‘এই আলোচনা আয়োজন এবং এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য আমরা পাকিস্তান সরকার এবং মহৎ ও উদার জনগণকে ধন্যবাদ জানাই।’
সূত্র: তাসনিম নিউজি এজেন্সি







