কুমিল্লা ১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনে গণভোটের এম্বাসাডর নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও কুমিল্লা-১০ আসনের এমপি প্রার্থী জয়নাল আবেদীন শিশির।তিনি এই আসনে গণভোটের হ্যা ভোটের পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালাবেন।
সম্প্রতি জয়নাল আবেদীন শিশিরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভা উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা (৪০ লাখ) বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছে। সরকার ২০২৫–২৬ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেট থেকে এই অর্থ অনুমোদন দিয়েছে।
জানা গেছে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়ার বরাবর দেওয়া আবেদনের ভিত্তিতে এই বিশেষ বরাদ্দ অনুমোদিত হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (পৌর–২ শাখা) গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বার্ষিক উন্নয়ন সহায়তা খাতের ‘বিশেষ বরাদ্দ’ উপখাত থেকে এককালীনভাবে নাঙ্গলকোট পৌরসভাকে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মোশারেফ হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়, বরাদ্দকৃত অর্থ নাঙ্গলকোট পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে পৌর এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। পৌরসভার প্রশাসক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা যৌথভাবে আয়-ব্যয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থ ব্যয়ের সময় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ২০০৮ এবং উন্নয়ন সহায়তা বরাদ্দ ও ব্যবহার নির্দেশিকা–২০২৪ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দ পাওয়া অর্থ আগামী ৩০ জুন ২০২৬ সালের মধ্যে ব্যয় করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ব্যয় না হলে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখের মধ্যে ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব স্থানীয় সরকার বিভাগে দাখিল করতে হবে।
এ বিষয়ে এনসিপি নেতা জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন,“আমি নাঙ্গলকোট-লালমাই অঞ্চলের মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এবার রাষ্ট্র সংস্কারে জনগণ কে গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করার জন্য উৎসাহিত করবো। আমৃত্যু এ এলাকার মানুষের সেবা করে যেতে চাই। নাঙ্গলকোট পৌরসভার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অনুমোদন করাতে পেরেছি, একই সঙ্গে লালমাইয়ের উন্নয়ন বরাদ্দের জন্যও আবেদন করা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে এই অঞ্চলের ৩৩টি মসজিদ ও মন্দিরে অনুদান নিশ্চিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো অঞ্চলের প্রায় ২০০টি মসজিদ ও মন্দিরে অনুদান নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, জয়নাল আবেদীন শিশির দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। এর আগে গত বছরের ১৯ নভেম্বর তার আবেদনের প্রেক্ষিতে কুমিল্লার লালমাই ও নাঙ্গলকোট উপজেলার ৩৩টি মসজিদ ও মন্দিরে ১ কোটি ২ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। এছাড়া তিনি এ অঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক, কালভার্ট ও ঈদগাহের উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা রেখেছেন। গত অক্টোবরে লালমাই ও নাঙ্গলকোট উপজেলার দুই শতাধিক মসজিদ ও মন্দিরে অনুদান প্রদানের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছিলেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই নাঙ্গলকোট পৌরসভার উন্নয়নে সরকারের এই বিশেষ বরাদ্দ এলো।







