ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে লতিফ ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। এতে ৪ জন গুরুতর আহতসহ মোট ১৬ জন আহত হন।
হলের ৫-৭টি কক্ষে ভাঙচুরের পাশাপাশি রুম থেকে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ করে ছাত্রশিবির। দুই দলের সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষের বেশ কিছু বহিরাগত হলে প্রবেশ করে বলেও অভিযোগ উঠে। সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছুরিকাঘাতের ঘটনাও ঘটে। ঘটনার একপর্যায়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে উপ-পুলিশ কমিশনারসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সরেজমিনে ভাঙচুর হওয়া হলের রুম পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ছাত্রদল এবং শিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সংঘর্ষের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ শিবিরের সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলের রুমে ঢুকে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। রুমের ভেতর ঢুকে ছাত্রদলের একজন সহযোদ্ধাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে, অনেকেই আহত হয়েছে। ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিবির সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করা হবে এবং শিবিরের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করছি।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের রক্ত ঝড়ালে, রক্তের বদলা নেওয়া হবে। বিগত সাড়ে ১৫ বছর ছাত্রদলের রক্ত ঝড়েছে, বিগত দেড় বছর প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল মবের শিকার হয়েছে। আজও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদলের রক্ত ঝড়ল, অথচ মোনাফেকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এর দায় ছাত্রদলের ওপর চাপিয়ে দিল! অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে। আর ছাড় দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ঢাকা পলিটেকনিকে রাতের অন্ধকারে ছাত্রাবাসে ঢুকে শিবিরকর্মীদের ওপর রামদা, রড ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল।
একদিকে খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজিতে জনজীবন বিপর্যস্ত; অন্যদিকে ক্যাম্পাসগুলোতে চলছে ছাত্রলীগীয় কায়দায় হামলা ও দখলদারিত্ব। আর প্রশাসন বরাবরের মতোই সেই পুরোনো চাটুকার ভূমিকায় লিপ্ত!
ডাকসু ভিপি আরও লেখেন, সরকারকে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই— অবিলম্বে নিজেদের দলীয় ক্যাডার বাহিনীকে সামলান। নইলে ক্যাম্পাসে সবার সহাবস্থান বিঘ্নিত করে পুনরায় দখলদারিত্ব ও সহিংসতা কায়েমের জন্য আপনাদেরকে চড়া মূল্য দিতে হবে।







