শিক্ষাগত পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য:

নিজ আসনের ভোটার নন জামায়াত আমিরের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মিল্টন

Post Image


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন নিজ আসনের ভোটার নন। তার নির্বাচনী হলফনামা পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে তিনি যে আসন থেকে নির্বাচন করছেন, সেখানে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।

তবুও মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে তিনি ভোটারেদের কাছে ভোট চাইছেন। যা প্রতারনার শামিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জানা যায়, ওই আসনে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা পল্লবী থানাধীন মিরপুর এলাকায়। তাঁর ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে- হোল্ডিং নম্বর ৪৫, রোড-২, মহল্লা-১২ ই, ওয়ার্ড নম্বর-২, পোস্ট অফিস মিরপুর (১২১৬), পল্লবী উপজেলা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এই ঠিকানার ভিত্তিতে তিনি ঢাকা-১৬ আসনের ভোটার।

তবে ভোটার হিসেবে ঢাকা-১৬ আসনের অন্তর্ভুক্ত হলেও তিনি প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনে, যা ভিন্ন একটি নির্বাচনী এলাকা। এ কারণে নিজের আসনে ভোট দিতে না পারার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে স্থানীয় ও দেশজুড়ে চরছে আলোচনা সমালোচনা।

এদিকে, শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর মনোনয়নপত্রের হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অষ্টম শ্রেণি পাস উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময় নিজেকে মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’ বিষয়টি যাচাই করে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের শিক্ষাগত পরিচয় যাচাই করতে বিদ্যালয়ের সংরক্ষিত শিক্ষার্থী রেজিস্টার, মূল নথিপত্র এবং অ্যালামনাই ডাটাবেজ পর্যালোচনা করা হয়।

দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সংগঠনটি জানায়, শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নাম মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের কোনো ব্যাচের শিক্ষার্থী তালিকায় পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ তিনি কখনোই ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন না।

অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হয়ে এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অনৈতিক। এতে একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সঙ্গে মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের কোনো শিক্ষাজীবনের সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর পরিচয় প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য আমরা তাঁর প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি।”

সংগঠনটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যাচার বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় অপব্যবহার অব্যাহত থাকলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকে বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি

সর্বশেষ খবর

হাইকোর্টে রিট করেছেন নুসরাত

ড. ইউনূসের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র আপিলেও বাতিল

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক

ঢাকা দক্ষিণ এনসিপির আহ্বায়ক ইসহাক, সদস্য সচিব শাহরিয়ার

‘গুপ্ত রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি বাংলাদেশ ছাত্র জমিয়তের

আবিদুলের অভিযোগের জবাব দিলেন সাদিক কায়েম

জুলাই আন্দোলনে গুলি চালানো সোলায়মান ফের আ.লীগের মিছিলে

সর্বাধিক পঠিত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়বে জামায়াত

পাবনায় দলীয় নেতাকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় জামায়াতের প্রতিক্রিয়া

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ ডেকেছে জামায়াত

১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে জনবান্ধব দেশ গড়ে তুলব

বহিষ্কার ও গণপদত্যাগে সংকটে মুন্সীগঞ্জ বিএনপি

নতুন করে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাইলে জনগণ জবাব দেবে

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের প্রস্তাব চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে: সালাহউদ্দিন

নির্বাচনে দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড -গোলাম পরওয়ার

হাসিনার রায় ঘোষণা নিয়ে অরাজকতা করলে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে

ইইউ পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের বৈঠক