রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ওয়ারেসুল করিম। বুধবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট-এর উদ্যোগে “সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিরোধ: রাজনৈতিক দলগুলোর পলিসি পর্যালোচনা”শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ও মানারাত ইন্টারন্যাশন্যাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব। উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্টের ডিস্টিংগুইসড ফেলো এবং সিটি ইউনিভার্সিটির ডিন প্রফেসর ড. জুলফিকার হাসান। উদ্বোধনী বক্তব্যে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ওয়ারেসুল করিম। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ের বড় দল বিএনপি ও জামায়াত এর পলিসিগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় উভয় দল দুর্নীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলে। পলিসি পরিকল্পনা উচ্চবিলাসি হলেও দুর্নীতি রোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার কর্মকৌশলের দিক থেকে জামায়াত তুলনামূলক এগিয়ে। ইনকরাপ্টেবল গভমেন্ট গঠন ছাড়া এই রকম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে ।”
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, “সুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে স্বাভাবিকভাবে দুর্নীতি কমে যাবে। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে যেটা অপ্রত্যাশিত। আমাদের আলোচনাটা এখানে হওয়া উচিত ছিল নির্বাচন কমিশন কেনো ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে যোগ্য ঘোষণা করলো। ঋণখেলাপিদের দিয়ে নির্বাচন করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, এটা এক ধরণের অলীক চিন্তা।”
শিক্ষক ও গবেষক মারদিয়া মামতাজ বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের পলিসিগুলো জনগণের কাছে পেশ করছেন এটা ভালো সাইন। দুর্নীতি আমাদের প্রধান সমস্যা বলছি, যদিও এর থেকে আমাদের বেরিয়ে আসার চেষ্টা নাই মনে হচ্ছে। যেমন আসন্ন নির্বাচনে কোন কোন রাজনৈতিক দল ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দিয়েছে, নাগরিক জায়গা থেকে আমরা আশংকা প্রকাশ করছি। সুশাসনের অনেক প্রতিশ্রুতি শুনছি কিন্তু এখনও রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত আছে যেটা এলার্মিং।”
গবেষক ড. আহমদ যোবায়ের বলেন, “বিএনপি ও জামায়াতের পলিসি ডকুমেন্টে অনেক সুন্দর সুন্দর প্রতিশ্রুতি দেওয়া আছে। আমাদের উচিত তাদের পলিসিগুলো কতটুকু গবেষণা প্রসূত ও বাস্তব সম্মত। দুই দলের পলিসি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে জামায়াতের দুর্নীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ডিজিটালাইজেশন ও ডিসেন্ট্রালাইজেশনে তুলনামূলকভাবে জোর দেওয়া হয়েছে।”
এছাড়াও আলোচনায় আরো অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক আব্দুল হাই, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. এসতেসামুল হক, শিক্ষক নাইমা মাসুদ নীলা, গবেষক ও শিক্ষক ড. আকরাম উদ্দিন সুমন, ড. ইফরান কাদের চৌধুরি প্রমুখ।







