জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আগের তিনটি নির্বাচনে পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে দিনের ভোট রাতে হয়েছে, এমনকি মৃত মানুষও ভোট দিয়েছে—যার পরিণতিতেই ‘৫ আগস্ট’ ঘটেছিল।
তিনি বলেন, প্রশাসনের ভেতরে এখনও অনেক দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা আছেন, যারা একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা দেখতে চান। তবে কিছু লোভী কর্মকর্তা—বেনজীর, হারুণ ও বিপ্লবদের মতো ব্যক্তিরা আবারও পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ অবস্থায় পুলিশসহ প্রশাসনকে অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান হাসনাত আব্দুল্লাহ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসাইন আশরাফীর সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এই নির্বাচনের জন্য বহু রক্ত ঝরেছে, অনেক স্ত্রী তার স্বামী হারিয়েছেন, অনেক মা তার সন্তান হারিয়েছেন। তাই আসন্ন নির্বাচনে প্রশাসন জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে ফের একটি ৫ আগস্ট হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই দেশকে ভোট চোরদের হাতে তুলে দেওয়া হবে নাকি জনতার হাতে তুলে দেওয়া হবে সেই সিদ্ধান্ত প্রশাসনকেও নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আশপাশে দেখা যায় গত দেড় বছরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির টাকা এখন নির্বাচনে আনা হচ্ছে। তবে আমরা জনগণের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই। ১২ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে চাঁদাবাজদের প্রত্যাখান করবে তারা। মানুষ চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির কারণে অতিষ্ঠ। তাই ১১ দলীয় জোট যে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়বে সেই বাংলাদেশ হবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা টাকার কাছে গোলামি স্বীকার করবে নাকি, সঠিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পাঁচ বছরের জন্য মালিক হবেন।’
নবীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নবীনগর উপজেলা শাখার আমির মোখলেছুর রহমান। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার আমির মো. মোবারক হোসাইন।







