মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার কিছু কার্যকর টিপস

Post Image

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ও মস্তিষ্কে কিছু পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে সঠিক জীবনযাপন করলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার গতি ধীর করা সম্ভব। একই সঙ্গে আলঝেইমার বা অন্যান্য স্মৃতিভ্রংশজনিত রোগের ঝুঁকিও কমানো যায়। বিশেষজ্ঞরা মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের ওপর জোর দেন।

নিচে গুরুত্ব অনুযায়ী মস্তিষ্ক ভালো রাখার ৬টি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন : নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। ব্যায়ামের সময় মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা মস্তিষ্কের কোষের সংযোগ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

সপ্তাহে কয়েক দিন ৩০ থেকে ৬০ মিনিট ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। হাঁটা, সাঁতার কাটা, টেনিস খেলা বা হালকা দৌড়ের মতো যে কোনো মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম উপকারী।

পর্যাপ্ত ও টানা ঘুম নিশ্চিত করুন : ঘুম মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক অপ্রয়োজনীয় উপাদান দূর করে এবং স্মৃতিগুলো গুছিয়ে রাখে। এতে শেখার ক্ষমতা ও মনে রাখার শক্তি বাড়ে।

প্রতিদিন রাতে টানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ভেঙে ভেঙে ঘুম হলে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম পায় না। যারা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন : খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। উদ্ভিদজাত খাবার, শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য, মাছ এবং ভালো চর্বিযুক্ত খাবার মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর তেল এবং ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কোষের কার্যকারিতা বাড়ায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন, তাদের আলঝেইমারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখুন : মস্তিষ্কও পেশির মতো। ব্যবহার না করলে এর কার্যকারিতা কমে যায়। নিয়মিত বই পড়া, শব্দছক বা সুডোকু করা, তাস খেলা বা ধাঁধা সমাধান মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে।

বিভিন্ন ধরনের কাজ করলে মস্তিষ্ক বেশি উপকৃত হয়। অতিরিক্ত টিভি দেখা এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এটি মস্তিষ্ককে তেমনভাবে সক্রিয় করে না।

সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখুন : পরিবার, বন্ধু ও আশপাশের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে। একা থাকলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিকভাবে সক্রিয় মানুষদের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে সুস্থ থাকে। তাই সুযোগ পেলেই মানুষের সঙ্গে কথা বলা ও সময় কাটানো জরুরি।

রক্তনালি ও হৃদ্‌স্বাস্থ্য ঠিক রাখুন : মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে রক্তনালির স্বাস্থ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে এসব সমস্যা আগেই ধরা পড়ে।

কম লবণ খাওয়া, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ব্যায়াম করা এবং ধূমপান পরিহার করা মস্তিষ্কের জন্য ভালো। অ্যালকোহল পান করলে তা সীমিত রাখা জরুরি।

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখা কোনো কঠিন কাজ নয়। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার, মানসিক ও সামাজিক সক্রিয়তা এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিলেই মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব। আজ থেকেই ছোট ছোট অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে ভবিষ্যতে স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা বজায় রাখা অনেক সহজ হবে।

সূত্র : Mayo Clinic

এই বিভাগের আরও খবর

অন্যান্য

News Image

কাতারে শুরু প্রথম বাংলাদেশি আম উৎসব

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

শিবির নেতাদের একযোগে ‘ধর শালারে’ পোস্ট; নেপথ্যে কী ?

প্রবাসীদের বৌকে নিয়ে কটূক্তি করা সেই টিকটকারকে ফলো করেন তারেক রহমান

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার কিছু কার্যকর টিপস

শীতে নারীদের হাত-পা পুরুষের তুলনায় বেশি ঠান্ডা থাকে যে কারণে

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায় একই স্থানে, পর্যটনের নতুন দুয়ার খুললো

চোখ, লিভার ও দেহের সুস্থতায় গাজর

শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানো, কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

শীতে কুসুম গরম পানি পানের বিভিন্ন উপকারিতা

সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা শহরে জনবান্ধব স্যানিটেশন নিশ্চিতে বহুদলীয় উদ্যোগ

সাদাপাথরে বিছিয়ে দেওয়া হলো জব্দকৃত ১২ হাজার ঘনফুট পাথর

জাতিসংঘে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন আজ

ভুল বিকাশ নম্বরে টাকা চলে গেলে ফেরত পাবেন যেভাবে

মাদকেও সেনাবাহিনীর যুগান্তকারী অ্যাকশনের অপেক্ষা

চীন সফরে গেলেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

রাজধানীতে পানির ট্যাংক পরিষ্কারের সময় বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ ৪

‘গৃহশ্রমিক সুরক্ষা নীতি’ বাস্তবায়নের দাবি

মধ্যরাতে রাজধানীর সড়কে ঝরল পাঁচ প্রাণ

'আমেরিকায় এক আওয়ামী চোর পরিবার রোলস রয়েসে মসজিদে যায়'