বাঙালি ঐতিহ্যের ধারণ করে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো “পিঠা উৎসব ২০২৬” (১৪৩২ বঙ্গাব্দ)।
আজ ১৫ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ডে বিকেল ৩টা থেকে রুয়েট পরিবার উৎসবটি আয়োজন করে। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে রাজশাহী শহর পরিষদ, রুয়েট। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি রুয়েট উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক এবং বিশেষ অতিথি রুয়েট উপাচার্যের সহধর্মিনী ডা. লায়লা আরজুমান বানু যিনি গাইনী বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়াও সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ফিতা কাটা ও ফুলেল শুভেচ্ছায় অতিথিদের বরণ করে নেয়া হয়। এরপর অতিথিদের আসন গ্রহণ ও পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। এসময় অতিথিরা স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
এ সময় রুয়েট ভিসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন,"আমাদের গ্রাম বাংলার শত বছরের ঐতিহ্য বাঙালির পিঠা পার্বণ। রুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রমের বাইরে শিক্ষার্থী সহ সবার জন্য রিফ্রেশমেন্টের উদ্দেশ্যে পিঠা উৎসবের আয়োজন করতে পেরে খুবই আনন্দিত।" সামনের দিনেও এমন কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্য শেষে বিশেষ অতিথি ডা. আরজুমান বানুর উদ্যোগে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রায় ২০০ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এসময় তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। কিছু এতিম বাচ্চারাও আজ এসেছে। তারা যেন নিজেদের এতিম মনে না করে রুয়েট সবসময়ই তাদের পাশে থাকবে।
পিঠা উৎসবের আনন্দঘন আয়োজনে যারা প্রচেষ্টা করেছেন তাদের কৃতজ্ঞতা জানান রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক ড. রবিউল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, "শহরের পরিবেশে থেকেও আজকের উৎসব আমাদের গ্রাম বাংলার কথা মনে করিয়ে দেয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিকরের সাথে পরিচয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।" তিনি শিক্ষার্থীদের মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে মনস্তত্ত্ব বিকাশে উদ্বুদ্ধ করেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা জানান, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও গ্রামীণ পিঠার স্বাদ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এবারের ব্যতিক্রমী পিঠা উৎসবে রুয়েটের শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠান সম্পর্কে রাজশাহী শহর পরিষদের সভাপতি মিরাত শাফিন তূর্য বলেন,"আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি রুয়েট পরিবারের এই আয়োজন রুয়েটের বন্ধনকে আরো শক্তিশালী করবে এবং সম্প্রীতির এক মহৎ বার্তা বহন করবে। এই আয়োজনের অংশ হতে পেরে রাজশাহী শহর পরিষদ গর্বিত।"
উৎসবকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের দেশীয় পিঠার স্টল ও আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বাংলা সংস্কৃতিতে পিঠার ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। গ্রামবাংলার শীতকালীন উৎসব, নবান্ন ও পারিবারিক মিলনমেলার সঙ্গে পিঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চালের গুঁড়া, গুড়, নারকেল ও দুধ দিয়ে তৈরি ভাপা, পুলি, চিতই, পাটিসাপটা কিংবা দুধচিতই—এসব পিঠা শুধু খাদ্য নয়, বরং বাঙালির আবেগ, স্মৃতি ও সংস্কৃতির অংশ। নগরজীবনের ব্যস্ততায় এই ঐতিহ্য কিছুটা আড়ালে চলে গেলেও, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পিঠা উৎসব রুয়েট ক্যাম্পাসে বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন অংশগ্রহণকারীরা।







