মনোনয়ন নিয়ে বিরোধে ক্ষতি বিএনপির, লাভ জামায়াতের

Post Image


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির অধিকাংশ প্রার্থী মাঠে প্রচারণায় থাকলেও প্রাথমিক মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলটির তৃণমূল এখনো বিভক্ত। অনেক আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ও মনোনয়নবঞ্চিতদের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এতে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হচ্ছে, আর সুযোগ নিচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য দলগুলো।

তৃণমূলে বিভাজন, উত্তপ্ত মাঠ

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বিএনপির বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন–সংক্রান্ত বিরোধও তত তীব্র হচ্ছে। প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া নেতারা এলাকায় অর্থ ব্যয় করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে মনোনয়নবঞ্চিতরাও সম্ভাব্য পরিবর্তনের আশায় মাঠে সক্রিয়, ব্যয় করছেন প্রচুর অর্থ।

এই বঞ্চিত নেতাদের সমর্থকরা মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি করছেন। আবার ঘোষিত সম্ভাব্য একক প্রার্থীর সমর্থকরাও পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে মাঠ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। সব মিলিয়ে এ বিভক্ত অবস্থান বিএনপির জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ডেকে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করছেন বিএনপি নেতারা। তবে দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে তৃণমূলের অনেকেই মনে করছেন।

একাধিক আসনে অভিযোগ উঠেছে—সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার হাইকমান্ডের নির্দেশনা মানছেন না। তারা মনোনয়নবঞ্চিতদের সঙ্গে যোগাযোগ না করায় বিরোধ আরও বাড়ছে।

প্রার্থী তালিকা পুনর্মূল্যায়ন চলছে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু যুগান্তরকে বলেন, দল আগেই বলেছে, এটা চূড়ান্ত তালিকা নয়, সম্ভাব্য তালিকা। কোনো এলাকায় পরিবর্তন দরকার মনে করলে, অবশ্যই তা করা হবে। সবকিছু বিশ্লেষণ করেই তালিকা করা হয়।

তিনি বলেন, মনোনয়ন ঘোষণার পর কিছু জায়গায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। কারণ, অনেক জায়গায়ই মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য দু-তিনজন করে নেতা আছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষোভ মিটিয়ে নিচ্ছি।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, আসনভিত্তিক কোন্দল, প্রার্থীদের শক্তি–দুর্বলতা ও বঞ্চিত নেতাদের অবস্থান যাচাই করতে একটি টিম কাজ করছে। তাদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

অন্তত ৪০ আসনে বিরোধ

ঘোষিত ২৩৬ আসনের মধ্যে প্রায় ৪০টি আসনে মনোনয়ন নিয়ে বিরোধ চলছে। অনেক বঞ্চিত নেতা দাবি করেছেন—স্থানীয় জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে ভুল করা হয়েছে, জরিপে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে।

সম্ভাব্য ও বঞ্চিত উভয় পক্ষই জানিয়েছেন, তারা প্রতিদিন মাঠে ধানের শীষের প্রচারণায় ব্যয় করছেন প্রচুর অর্থ ও শ্রম। কিন্তু অনিশ্চয়তা দীর্ঘ হলে এ লাভবান হবে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতসহ অন্য দলগুলো।

তৃণমূলের নেতারা বলছেন, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি জরুরি। নয়তো নির্বাচনি মাঠে এই বিভাজনেরই ফায়দা তুলবে বিএনপির প্রতিপক্ষরা।

এই বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি

সর্বশেষ খবর

সরকারি সুবিধা নামে বিএনপি নেতার প্রতারণা, পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

দুই মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে জনগণ হতাশ

এনসিপিতে চার মুক্তিযোদ্ধাসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মীর যোগদান

১৮ কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলো ছাত্রদল

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে স্বস্তি পেলেন দুই শ্রেণির মানুষ।

রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের সহযোগিতা চাইল জামায়াত

যেকোনো সময় ছাত্রদলের কমিটি, কপাল পুড়তে পারে বিতর্কিতদের

পুলিশের ওপর হামলা: ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার ও দল থেকে বহিষ্কার

সর্বাধিক পঠিত

৩০ দফা ইশতেহার ও ১২ বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের

হাদিকে বিদেশে নেয়ার পরিকল্পনা

হাসিনার বিচার আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে, রায়ও বাস্তবায়ন হবে

প্রয়োজনে দেশের মানুষ ভোটের জন্য জীবন দেবে: আসিফ মাহমুদ

ঢাকা-১৯ আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা ও নারী হেনস্তা: ১১ দলীয় জোটের তীব্র নিন্দা

সামনে আরও হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে : মির্জা ফখরুল

এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এনসিপির সামান্তা শারমিন

একটি বিশ্বমোড়ল ও দুটি ‘আঞ্চলিক শক্তি’ প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে: সালাহউদ্দিন

গণঅভ্যুত্থানের সেই আইকনিক জার্সিতে সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ

জুলাই সনদ ও গণভোট প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান জাতির সাথে গাদ্দারির শামিল