নবীন আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পাশাপাশি প্রতিটি কোম্পানিতে বাধ্যতামূলকভাবে একজন আইনজীবী রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার বিকাল ৪ টা ৩৮ মিনিটে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ২০০৬ ব্যাচের নবীন আইনজীবীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ঢাকা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সভাপতি, সিনিয়র আইনজীবী এবং নবীন আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নবীন আইনজীবীদের শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সফলতা কামনা করেন আইনমন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান থাকাকালে নবীন আইনজীবীরা স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ জন্য তিনি আনন্দিত, উদ্বেলিত ও অত্যন্ত খুশি।
তিনি আরও বলেন, নবীন আইনজীবীরা মেধা, মনন ও মগজের মাধ্যমে আইনজীবী হয়েছেন। এ কারণে তিনি আনন্দিত ও উদ্বেলিত। যারা নবীন আইনজীবীদের তদবির করে পাস করার কথা বলছেন, তাদের মনে রাখতে হবে, এখানে কোনো তদবির কাজ করেনি। কাজ করেছে নবীন আইনজীবীদের মেধা। শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতেই তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
আইনজীবীদের পেশাগত মান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের জন্য বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার আইনজীবী যথেষ্ট নয়। এ সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। আইনজীবী হওয়ার জন্য বার কাউন্সিলের পরীক্ষার কঠিন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এমনকি বিসিএস পরীক্ষার চেয়েও বার কাউন্সিলের পরীক্ষা কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ভালো আইনজীবী হতে হলে শর্টকাট পথ ভুলে যেতে হবে। বিচারকের কক্ষে গিয়ে তদবিরের মাধ্যমে বিচার প্রভাবিত করার চেষ্টা করা যাবে না। আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা, সততা ও আইনের বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
নবীন আইনজীবীরা যাতে আইনের বিভিন্ন বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শিখতে পারেন, সে জন্য প্রশিক্ষণে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। আইনজীবীদের মানোন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।
এ ছাড়া প্রতিটি কোম্পানিতে আলাদা আইনজীবী রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলে আইনজীবীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রয়োজনে কোম্পানি আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।







