গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক শেখের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘তৌফিকের সদ্য বিধবা স্ত্রী, সে-ও একই সাথে অভাবের তাড়নায় গার্মেন্টসে চাকরি করত। তবে তাদের একমাত্র সন্তানের জন্মের পর তার লালন-পালনের জন্য সে চাকরিটি ছেড়ে দেয়। তাদের বাবু সিয়ামের বয়স এখন মাত্র ১১ মাস। এ কথা বলে সে কান্নায় ভেঙে পড়ল।’
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, “গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক শেখের পরিবারের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ। আজ সকাল ১১টা ২০ মিনিটে, সম্প্রতি গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক শেখের পরিবার তথা তার স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা হলো। উভয়ই কান্নায় ভেঙে পড়ল। দুটি এতিম ভাই বড় কষ্টেসৃষ্টে বড় হয়েছিল, নিতান্তই কষ্টের সংসারে তাদের বেড়ে ওঠা। একই গার্মেন্টসে একই সঙ্গে দু’ভাই চাকরি করত। কিন্তু দেখতে দেখতে চোখের সামনে ভাইটিকে হারিয়ে ফেলল। হাসপাতালে গিয়েও ভাইটি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিল, শেষ কথাটাও ভাইয়ের সাথে বলতে পারল না বলেই বড় ভাই কান্নায় ভেঙে পড়ল।”
তিনি বলেন, “তৌফিকের সদ্য বিধবা স্ত্রী, সে-ও একই সাথে অভাবের তাড়নায় গার্মেন্টসে চাকরি করত। তবে তাদের একমাত্র সন্তানের জন্মের পর তার লালন-পালনের জন্য সে চাকরিটি ছেড়ে দেয়। তাদের বাবু সিয়ামের বয়স এখন মাত্র ১১ মাস। এ কথা বলে সে কান্নায় ভেঙে পড়ল।
তিনি আরও বলেন, “মাথা গোঁজার জন্য গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় এক ইঞ্চি জায়গাও তাদের নিজস্ব নেই। বর্তমানে স্বামীর চাচার ছোট্ট একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছে তারা। পরিবারটির এহেন পরিণতি দেখে খুবই খারাপ লাগছে। আমরা তৌফিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই। এ দেশে গরিবের বিচার পাওয়ার সুযোগ কতটা আছে তা জানি না, তবুও আমরা বিচার চাইব। সেই ন্যায্য বিচারটুকু পেলেও অন্তত এই বিধ্বস্ত স্ত্রী ও পরিবারটি কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাবে।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ইনশাআল্লাহ এই পরিবারের পাশে থাকব। আল্লাহ তাআলা এই অসহায় পরিবারের সহায় হোন, আমিন। তাদের সাথে ফোনালাপকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাইবান্ধা জেলা শাখার আমির জনাব আব্দুল করিম এমপি, সাবেক আমির ও বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং গোবিন্দগঞ্জ আসনের বিগত সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী জনাব ডা. আব্দুর রহিম সরকারসহ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আমির ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারটির খোঁজখবর ও সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য সেখানে উপস্থিত হন।”
প্রসঙ্গত, গত ১ নভেম্বর (রবিবার) গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলা আন্দোলনের সময় হামলার শিকার হন পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখ। পরিবারের অভিযোগ, আন্দোলন চলাকালে কারখানা ভাঙচুরের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গত ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।







